আগরতলা, ৩ এপ্রিল: আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ত্রিপুরায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ তুলল সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাম নেতারা দাবি করেন, রাজ্যে পর্যাপ্ত ভিভিপ্যাট সংযুক্ত ইভিএম থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রদেশ থেকে আনা ভিভিপ্যাটবিহীন ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৩০ সদস্যবিশিষ্ট ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর নির্বাচন আগামী ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৯ এপ্রিল উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
বামফ্রন্ট কমিটির আহ্বায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকে বাম দল, কংগ্রেস ও অন্যান্য কয়েকটি দল ভিভিপ্যাট সংযুক্ত ইভিএম ব্যবহারের দাবি জানায়। তবে বিজেপি এই দাবির সঙ্গে একমত হয়নি এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ কুমার সেই দাবি খারিজ করে দেন।
মানিক দে অভিযোগ করেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশন “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে” কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচন ও বিধানসভা উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিও কমিশন নাকচ করে দিয়েছে।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরার জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা এক নির্বাচনী প্রচারে মন্তব্য করেছেন যে, ভোটাররা যেই বোতামই টিপুন না কেন, ভোট বিজেপির পক্ষেই যাবে। এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাম নেতৃত্বের।
বামফ্রন্টের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ওয়েবকাস্টিংয়ের দাবি জানানো হলেও তহবিলের অভাবের কথা বলে তা খারিজ করা হয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য।
তাঁদের আরও অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে প্রকাশ্যে টাকা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একইসঙ্গে ধর্মনগর উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে দাবি করা হয়।
ধর্মনগর উপনির্বাচনে বিজেপি, সিপিআই(এম), কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দলের মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রয়াত বিধায়ক তথা ত্রিপুরা বিধানসভার স্পিকার বিশ্ববন্ধু সেনের মৃত্যুর পর এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অসুস্থতার কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, টিটিএএডিসি নির্বাচনে বিজেপি, তিপ্রা মথা পার্টি এবং বামফ্রন্ট ২৮টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। কংগ্রেস ২৭টি আসনে এবং আইপিএফটি ২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া ৩৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৭৩ জন প্রার্থী ১২ এপ্রিলের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১০,৪৯১ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত টিটিএএডিসি ত্রিপুরার মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে এবং এখানে প্রায় ১২.১৬ লক্ষ মানুষের বসবাস, যার মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশই জনজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত।



















