News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরায় বিনিয়োগ হয়েছে ৩,৮০০ কোটি টাকা, জিএসটি আদায় ৯৯৪ কোটির বেশি : রাজ্যপাল
Image

ত্রিপুরায় বিনিয়োগ হয়েছে ৩,৮০০ কোটি টাকা, জিএসটি আদায় ৯৯৪ কোটির বেশি : রাজ্যপাল

আগরতলা, ১৩ মার্চ : ত্রিপুরায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। শুক্রবার ত্রয়োদশ ত্রিপুরা বিধানসভার নবম অধিবেশনের সূচনা দিনে তাঁর ভাষণে রাজ্যপাল জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১২০ জনের বেশি বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং শিক্ষা, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ৩,৮০০ কোটি টাকার ৮৭টি সমঝোতা স্মারক (মৌ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি জানান, আগরতলায় অনুষ্ঠিত ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৫-এর মাধ্যমে এই বিনিয়োগের পথ সুগম হয়েছে।

রাজ্যের আর্থিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত রাজ্যে জিএসটি থেকে ৯৯৪.২৩ কোটি টাকা, ভ্যাট থেকে ২৮১.৪০ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ২৭১.৪৮ কোটি টাকা এবং প্রফেশনাল ট্যাক্স থেকে ২৬.৮৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এতে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর প্রদানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজ্যপাল নতুন কয়েকটি নীতিগত উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরা উইমেন এন্টারপ্রেনিউরশিপ পলিসি ২০২৫, যার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাজার ও ঋণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, বিশ্বাসভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ত্রিপুরা জন বিশ্বাস আইন প্রণয়নের কথাও তিনি জানান।

শিক্ষাক্ষেত্রেও রাজ্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলে রাজ্যপাল জানান। তিনি বলেন, ২৩ জুন ২০২৫ তারিখে উল্লাস নব ভারত সাক্ষরতা কর্মসূচি-র আওতায় ৯৫.৬ শতাংশ সাক্ষরতার হার অর্জন করে ত্রিপুরা পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। এর ফলে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এই মাইলফলক অর্জনকারী দেশের তৃতীয় রাজ্যে পরিণত হয়েছে ত্রিপুরা।

নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে। পিএম-কুসুম প্রকল্প-এর আওতায় সর্বাধিক সৌর পাম্প স্থাপনের জন্য রাজ্য ‘সেরা পারফরমিং রাজ্য’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে উইমেনস কলেজকে উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে উন্নীত করা, ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিকে রাজ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা এবং আগরতলা, উদয়পুর ও আমবাসায় তিনটি নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন।

রাজ্যের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথাও তুলে ধরে রাজ্যপাল জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় মোট ১০,৬১৭ কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্ক রয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় সড়ক, জেলা সড়ক, নগর ও গ্রামীণ সড়ক অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে।

Releated Posts

‘এক পেড় মা কি নাম’ কর্মসূচিতে আগরতলায় বৃক্ষরোপণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল

আগরতলা, ১৪ জুন: পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘এক পেড়…

ByByReshmi Debnath Jun 14, 2026

স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে ৮০ শতাংশ রেফার কমেছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৪ জুন: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উল্লেখযোগ্য উন্নতির ফলে বর্তমানে রোগী রেফারের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে এসেছে…

ByByReshmi Debnath Jun 14, 2026

ত্রিপুরা বার অ্যাসোঃ নির্বাচন : সভাপতি পদে পৃথা দেব পাল, সহ-সভাপতি পদে জিবন কৃষ্ণ সেন ও সম্পাদক পদে ভাস্কর দেববর্মা জয়ী

নিজস্ব সংবাদদাতা, আগরতলা, ১৩ জুন: ত্রিপুরা বার এসোসিয়েশনের নির্বাচনে জয় জয়কার সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের প্রার্থীদের। ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশন…

ByByReshmi Debnath Jun 14, 2026

রাজ্যে অয়েল পাম চাষ পৌঁছাল ৩,৫০০ হেক্টরের বেশি এলাকায়: মন্ত্রী রতন লাল নাথ

আগরতলা: ত্রিপুরায় ভোজ্য তেল উৎপাদনে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার অয়েল পামচাষ সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ…

ByByReshmi Debnath Jun 13, 2026
Scroll to Top