জগদলপুর, ১১ মার্চ: ভারতের মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি (ডিকেএসজেডসি)-র মোট ১০৮ জন মাওবাদী সদস্য সহিংসতার পথ ছেড়ে মূল স্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।
ছত্তিশগড়ের জগদলপুর-এর বস্তার বিভাগীয় সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পুনা মার্গেম পুনর্বাসন থেকে পুনর্জন্ম উদ্যোগ প্রকল্পের আওতায় এই আত্মসমর্পণ হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এটি অন্যতম বড় গণ-আত্মসমর্পণের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু অস্ত্র সমর্পণ নয়, বরং সহিংসতা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, সমাজে পুনঃএকীকরণ এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি করা।
এদিকে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার উদ্ধার করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারতে মাওবাদী বিরোধী অভিযানের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা।
বস্তার রেঞ্জের একাধিক জেলা, বিশেষ করে বিজাপুর এলাকা থেকে এই অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিদ্রোহী কার্যকলাপ চালানোর বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে।
এই উদ্ধার হওয়া অস্ত্রভাণ্ডার জগদলপুরের রেঞ্জ সদর দফতরে আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন অনুষ্ঠানের সময় প্রদর্শন করা হবে। এর মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ব্যাপ্তি এবং সহিংসতা ছেড়ে শান্তির পথে ফেরার প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কর্তৃপক্ষের মতে, ‘পুনা মার্গেম’ উদ্যোগের সাফল্যের মূল রহস্য হল দ্বিমুখী কৌশল—একদিকে সহিংসতার অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া, অন্যদিকে প্রাক্তন জঙ্গিদের মর্যাদাপূর্ণভাবে সমাজে ফেরার সুযোগ তৈরি করা।
১০৮ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ এবং বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনাকে বস্তার অঞ্চলে দীর্ঘদিনের মাওবাদী সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

