আগরতলা, ৯ মার্চ : বর্তমানে এডিসি এলাকায় উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অনিয়মের কথা বলছেন। গত পাঁচবছরে খুমুলুঙকে শ্মশানে পরিণত করেছে তিপরা মথা। তাই বামফ্রন্টের তরফ থেকে অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও তারুণ্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। জনগণকে প্রলোভনে পা না দেওয়ার জন্য আবেদন জানান সিপিআইএমের পলিটব্যুরো সদস্য তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট সময়েই এডিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী। আজ এডিসি নির্বাচন এবং ধর্মনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বামফ্রন্ট ও দলের রাজ্য কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মনগর উপনির্বাচন ও এডিসি নির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
ধর্মনগরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে বিপুল অর্থ বা কালো টাকার জোর না থাকলেও মানুষের সমর্থনের উপর ভরসা রয়েছে বামফ্রন্টের বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের কাছে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আসছে এবং সেই অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়ে মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, ধর্মনগর উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে বামফ্রন্ট আহ্বায়ক মানিক দে বলেন, এডিসি এলাকায় অতীতে কয়েকবার অন্য দল ক্ষমতায় এলেও তা জনগণের ভোটে নয় বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, একসময় সন্ত্রাসবাদীদের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। এবারের এডিসি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই নির্বাচনে বামফ্রন্ট জোর লড়াই করবে বলেও জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, এডিসি এলাকায় দুর্নীতি, পেনশনভোগীদের বকেয়া অর্থ প্রদান না করা, শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি এবং পানীয় জলের তীব্র সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, বহু এলাকায় অনাহারের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং শিশু বিক্রির মতো ঘটনাও ঘটছে। বামফ্রন্টের আমলে এডিসি এলাকায় উন্নয়ন ও সম্প্রীতির পরিবেশ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণের দাবি জানান বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে।

