নয়াদিল্লি, ৯ মার্চ (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের উপরে উঠে গেলেও আপাতত দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হবে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিকেই (ওএমসি) অতিরিক্ত চাপ বহন করতে হতে পারে।
সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব আপাতত নিজেদের মুনাফা কমিয়ে সামাল দিতে পারে ওএমসিগুলি। ফলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে খুচরো জ্বালানির দাম আপাতত অপরিবর্তিতই থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি এবং স্ট্রেইট অফ হরমুজে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুডও প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলার ছুঁয়েছে। ২০২২ সালের পর এই প্রথম উভয় সূচকই ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করল।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির পরেও দেশের পাম্পে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সাধারণত বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খুচরো জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হলেও অস্বাভাবিক অস্থিরতার সময় সরকার মাঝে মাঝে তেল সংস্থাগুলিকে দাম না বাড়ানোর নির্দেশ দেয়।
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
এছাড়াও আমদানি উৎস বৈচিত্র্যময় করার দিকে জোর দিয়েছে ভারত। আগে দেশের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ স্ট্রেইট অফ হরমুজ-এর বাইরের উৎস থেকে আসত, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, ইতিমধ্যেই প্রথম তেলের কার্গো স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে চলাচল শুরু করেছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যদি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হয়, তবে উপসাগরীয় রপ্তানিকারক দেশগুলি ‘ফোর্স মাজর’ ঘোষণা করে সরবরাহ বন্ধ করতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ৪০ ডলারে পৌঁছতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতিকে সাময়িক বলে মন্তব্য করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকির মোকাবিলার সঙ্গে এই বাড়তি দাম সাময়িকভাবে যুক্ত।

