নয়াদিল্লি, ৮ মার্চ: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রবিবার দেশের সমস্ত ‘নারী শক্তি’-কে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সাফল্য ও অবদান ভারতের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের সব নারী শক্তিকে জানাই শুভেচ্ছা। প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা দৃঢ়তা, সৃজনশীলতা ও অতুলনীয় উদ্যম নিয়ে ভারতের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের সাফল্য গোটা দেশকে অনুপ্রাণিত করে এবং বিকশিত ভারত গড়ার আমাদের সম্মিলিত সংকল্পকে শক্তিশালী করে।”
তিনি আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে। প্রতিটি নারী যাতে নিজের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারেন এবং দেশের উন্নয়নের যাত্রায় অবদান রাখতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী এদিন কেন্দ্র সরকারের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল মাইগভইন্ডিয়া-এর একটি পোস্টও শেয়ার করেন, যেখানে নারী শক্তির বিভিন্ন সাফল্যের দিক তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা, স্টার্টআপ, বিজ্ঞান, প্রশাসন ও সামাজিক উন্নয়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা নেতৃত্ব, সাহস ও দৃঢ়তার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ছেন।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশের মেয়েরা এখন আরও বেশি সংখ্যায় এগিয়ে আসছেন। সৈনিক স্কুলে পড়াশোনা করা ছাত্রীদের থেকে শুরু করে জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি-র প্রথম মহিলা ব্যাচের স্নাতক হওয়া—সব মিলিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনায় রাফাল যুদ্ধবিমান চালানো দেশের প্রথম মহিলা পাইলট শিবাঙ্গী সিং-এর মতো পথিকৃৎদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্টার্টআপ ক্ষেত্রেও নারীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। সরকারের স্টার্টআপ ইন্ডিয়া এবং স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া-এর মতো উদ্যোগ নারী উদ্যোক্তাদের নতুন সুযোগ করে দিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ স্টার্টআপে নারী পরিচালক রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা-এর ঋণের ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করছে।
এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্র, গ্রামীণ গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা সমাজকে আরও শক্তিশালী করে তুলছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে অধিকাংশ প্রসব এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদভাবে হচ্ছে এবং মাতৃমৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শেষে ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড়দের সাফল্যের কথাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালে মহিলাদের ক্রিকেটে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য এবং প্রথম ব্লাইন্ড মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের উল্লেখ করা হয়েছে।

