আগরতলা, ৩ মার্চ: ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে এক প্রেস বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমরা বাঙালি। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা খুমেইনির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পরিস্থিতির প্রভাবে ইরানসহ একাধিক দেশে বিক্ষোভ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও লক্ষ্মৌসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও এই সংঘাত নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। আমেরিকার বিপরীতে রাশিয়া ও চীনের অবস্থান বিশ্বরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৃহত্তর বৈশ্বিক সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশ্বের একাধিক দেশ পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত হওয়ায় যে কোনও বড় যুদ্ধ মানবসভ্যতার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হলে তার প্রতিক্রিয়া মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে এবং তা মহাবিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থান এবং ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিবৃতিদাতারা।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সোনার দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং কিছু এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও জ্বালানির সরবরাহ ঘাটতি এবং কালোবাজারির অভিযোগও উঠেছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও প্রকট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা ও বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
এমতাবস্থায় করণীয় প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং শান্তির পক্ষে শক্তিশালী বিশ্বজনমতই সংঘাতরত পক্ষগুলিকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে।
বিবৃতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের নীতিবান ও সচেতন মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবিকতা, সহমর্মিতা ও কূটনৈতিক সমাধানের পথেই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করা হয়।



















