তেলিয়ামুড়া, ২৪ মে: ফুল দেওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাত্র ছয় বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক নাবালকের বিরুদ্ধে। মানবতার মুখে চরম কলঙ্কের দাগ এঁকে দেওয়া এই বিভীষিকাময় ঘটনাটি ঘটেছে তেলিয়ামুড়া থানা এলাকায়। অভিযুক্ত কিশোর পার্শ্ববর্তী বাড়িরই নবম শ্রেণীর ছাত্র বলে জানা গেছে। এই পৈশাচিক ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। জনশূন্য বাড়ির সেই সুযোগটাই নেয় অভিযুক্ত বখাটে কিশোর। ছোট্ট শিশুটির ফুলের প্রতি ভালোবাসাকে অস্ত্র বানিয়ে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায় সে। এরপরই তার ওপর চালায় পাশবিক অত্যাচার।
শনিবার রাতে শিশুটি তার গোপনাঙ্গে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করলে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বিষয়টি তার মাকে জানায়। মেয়ের মুখ থেকে এই নৃশংসতার কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।
আজ, রবিবার সকালে এই খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত কিশোরকে ধরে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ প্রশাসন।
নির্যাতিতা শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তেলিয়ামুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নাবালকের বিরুদ্ধে তেলিয়ামুড়া থানায় পকসো আইনে মামলা নথিভুক্ত করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই নারকীয় ঘটনার পর তেলিয়ামুড়া জুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে— সমাজে আজ শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়? নবম শ্রেণীতে পড়া একজন কিশোরের মনে কীভাবে এমন পাশবিক ও বিকৃত মানসিকতার জন্ম নিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে অপরাধীর বিরুদ্ধে যেন দ্রুততম সময়ে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘নরপিশাচ’ শিশুদের দিকে এমন কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস না পায়।



















