নয়াদিল্লি, ২৪ মে (আইএএনএস): রাজধানীতে তোলাবাজির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত গুলিচালনার ছক বানচাল করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। কপিল সাংওয়ান ওরফে নন্দু গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত তিন সন্দেহভাজন শার্পশুটার এবং দুই অস্ত্র সরবরাহকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেলে বন্দি গ্যাংস্টার কপিল সাংওয়ানের নির্দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ছাওলা এলাকার একটি ক্লিনিকে গুলি চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিযোগ, তোলাবাজির চাপ সৃষ্টি করতেই এই হামলার ছক কষা হয়।
ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল, চারটি তাজা কার্তুজ এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দাবি, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে সক্রিয় সংঘবদ্ধ অপরাধ ও তোলাবাজি চক্রের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়।
প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, পাঞ্জাবের শার্পশুটারদের ভাড়া করা হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকে নিশানা করার জন্য।
দীর্ঘ এক মাসের নজরদারির পর প্রথমে ২০ মার্চ অমৃতসরের বাসিন্দা অভিষেককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য এবং সহযোগীদের নাম জানায় বলে পুলিশের দাবি।
পরবর্তীতে অমৃতসরের সাহিল এবং হর্ষদীপ ওরফে পোলুকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি হরিয়ানার কৈথল জেলার করণ ওরফে অঙ্কুশ এবং আমনকেও ধরা হয়। অভিযোগ, তারাই শার্পশুটারদের জন্য অস্ত্র ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা জোগাড় করেছিল।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে অভিযুক্তরা দিল্লিতে এসে ছাওলা এলাকার ওই ক্লিনিকের আশপাশে রেকি চালায়। তবে এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় থাকায় পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, অস্ত্র, গুলি এবং মোটরসাইকেল হরিয়ানাভিত্তিক গ্যাং সদস্যদের মাধ্যমে জোগাড় করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলি ব্যবহার করে ধৃতরা জেলে থাকা সাংওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলেও অভিযোগ।
পুলিশের মতে, এই গ্রেফতারির ফলে নন্দু গ্যাং পরিচালিত তোলাবাজি চক্রে বড় ধাক্কা লেগেছে এবং রাজধানীতে সম্ভাব্য বড়সড় গুলিচালনার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করা এবং পুরো অপরাধচক্রের বিস্তার সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।



















