কলকাতা, ২ মার্চ (আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সিউড়ি মহকুমার ধল্লা গ্রামে ২৮ বছরের এক যুবকের স্ট্রোকে মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পরিবারের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ বিভাগে পড়ায় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।
মৃত যুবকের নাম শেখ কামরুল (২৮)। তিনি চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তান।
পরিবারের দাবি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর স্ত্রীর নাম ‘অনুমোদিত’ বিভাগে থাকলেও কামরুলের নাম ‘বিচারাধীন’ বিভাগে রাখা হয়। বিষয়টি জানার পর থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রবিবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় তাঁকে চিন্তিত দেখাচ্ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
কামরুলের মা জানান, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আমার ছেলে অনেক দিন ধরেই চাপে ছিল। মাথাব্যথায় ভুগছিল। রবিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, ওর স্ট্রোক হয়েছে। পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার আগেই ও মারা যায়। ঘটনার পর সোমবার ধল্লা গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও মানসিক চাপই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। সিউড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কার্যনির্বাহী আধিকারিক আরিফ হোসেন শোকাহত পরিবারের বাড়িতে যান। তিনি দাবি করেন, ধল্লা গ্রামের ২৩০ জন বাসিন্দার নাম ‘বিচারাধীন’ বিভাগে রাখা হয়েছে।
আরিফ হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত। একজন কর্মক্ষম যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে, বিজেপিও দায় এড়াতে পারে না। তিনি জানান, দল মৃতের পরিবারের পাশে থাকবে।
অন্যদিকে, বিজেপি অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় এক বিজেপি নেতা বলেন, মৃত্যু দুঃখজনক, কিন্তু অসুস্থতাজনিত মৃত্যুকে রাজনৈতিক রং দেওয়া আরও দুর্ভাগ্যজনক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

