‘একজনও হিন্দু শরণার্থীকে বাংলার মাটি থেকে বিতাড়িত করা হবে না’: অমিত শাহ

কলকাতা, ২ মার্চ (আইএএনএস): প্রতিবেশী দেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়া কোনও হিন্দু শরণার্থীকে দেশছাড়া করা হবে না বলে আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাইদিঘিতে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ উপলক্ষে এক জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। একজনও হিন্দু শরণার্থীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হবে না বা তাঁদের বিতাড়িত করা হবে না।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত বিচারিক আধিকারিকদের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত নথির বিচারিক যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আশ্বাস তাৎপর্যপূর্ণ। মতুয়ারা মূলত বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দু সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষ, যাঁরা উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলায় বেশি বসবাস করেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে তাঁরা বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত।

তবে একইসঙ্গে অমিত শাহ স্পষ্ট করেন, হিন্দু শরণার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা হলেও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য থেকে অপসারণ করা হবে।”

সভায় তিনি আরও ঘোষণা করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য ৫,৭০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ করা হবে। তাঁর কথায়, “বাংলার মা-বোনেদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প চালু করা হবে।”

রাজ্য সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) না পাওয়া এবং বকেয়া ইস্যুতেও তিনি সরব হন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়া, চলতি বছরের মধ্যেই রাজ্য সরকারি দফতরগুলিতে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত ১৬ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস শাসনে দুর্নীতির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তিনি বলেন, “বহিরাগত মাফিয়াদের প্রভাব নির্মূল করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা আরও জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুতর অপরাধ ও দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তি ও পরিবারকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

Leave a Reply