কাঠমান্ডু, ২ মার্চ (আইএএনএস) : আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠেয় সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি নাগরিকদের সক্রিয়ভাবে ভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ভোট শুধু সরকার গঠনের বিষয় নয়, বরং নিজেদের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘জেন-জি আন্দোলন’-এর জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি-র নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
শুরুতে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউনিফাইড মার্কসবাদী লেনিনবাদী) (সিপিএন-ইউএমএল) ও নেপালি কংগ্রেস-সহ কয়েকটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষ থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রধান সব দলই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
হোলি উৎসবের সূচনার দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট দেওয়া মানে শুধু একটি প্রতীকে সিল মারা নয়, এটি আপনার ও আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
নেপালে মোট ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচিত হবে। এর মধ্যে ১৬৫টি আসন সরাসরি ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (এফপিটিপি) পদ্ধতিতে এবং ১১০টি আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবে। এফপিটিপি ব্যবস্থায় ৬৭টি রাজনৈতিক দলের মোট ৩,৪০৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী কার্কি বলেন, জেন-জি আন্দোলনের পর দেশের পরিস্থিতি ছিল জটিল ও স্পর্শকাতর। গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভে পুলিশি পদক্ষেপসহ বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৮৪ বিলিয়ন নেপালি রুপিরও বেশি সম্পদের ক্ষতি হয়।
তিনি বলেন, রাস্তার যুবসমাজের ক্ষোভ, মানুষের মনে ভয় এবং জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আমাদের প্রথম দায়িত্ব ছিল সহিংসতা থেকে দেশকে সরিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পথে ফিরিয়ে আনা। আমরা সেই ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছি।
সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ‘নীরবতা পর্বে’ সব ধরনের প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত নেপালি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক মিশনগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবুধাবিতে ইরানি হামলায় এক নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অঞ্চলের ১২টি দেশে বসবাসরত প্রায় ১৭ লাখ নেপালির নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

