হায়দরাবাদ হাউসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রী মোদির

নয়াদিল্লি, ২ মার্চ (আইএএনএস): দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে সোমবার হায়দরাবাদ হাউসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বৈঠকে ভারত-কানাডা কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—এই সব মূল ক্ষেত্রের চলমান সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।

দু’জনই এদিন ভারত-কানাডা সিইও ফোরামেও যোগ দেবেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কার্নির এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক সম্মান, একে অপরের উদ্বেগ ও সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা, দৃঢ় জনসম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক পরিপূরকতার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন।

এদিন সকালে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও কার্নির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর তিনি বলেন, “নয়াদিল্লিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দিত। ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তাঁর প্রতিশ্রুতিকে সাধুবাদ জানাই।”

কার্নি তাঁর স্ত্রী ডায়ানা ফক্স কার্নিকে সঙ্গে নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত প্রথম সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন। শুক্রবার তিনি মুম্বইয়ে পৌঁছে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ভারতীয় ও কানাডীয় শিল্পপতি, আর্থিক বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং ভারতে বিনিয়োগকারী কানাডীয় পেনশন ফান্ড প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নয়াদিল্লিতে পৌঁছে সামাজিক মাধ্যমে কার্নি লেখেন, “ভারত ও কানাডা আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী দুই দেশ, যারা একসঙ্গে দৃঢ়ভাবে এগোতে চায়। জ্বালানি, প্রতিভা, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে আমাদের জনগণের জন্য আরও নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই।”

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে জোহানেসবার্গে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে শেষবার মুখোমুখি বৈঠক করেন দুই নেতা। তখন ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রার কথাও উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

Leave a Reply