কাঠমান্ডু, ২৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইজরায়েল, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে বসবাসকারী নেপালি নাগরিকদের সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে নেপাল সরকার।
শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে আকাশপথে হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরান, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতারের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর মিলেছে।
নেপাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইজরায়েল ও ইরানে থাকা নেপালি নাগরিকদের স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। যতটা সম্ভব ঘরের ভিতরে থাকার, সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। কাঠমান্ডুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তেল আবিবে অবস্থিত নেপাল দূতাবাস এবং দোহায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাঁরা ইজরায়েল বা ইরান সফরের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সফর স্থগিত রাখার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে কর্মরত নেপালি নাগরিকদেরও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইজরায়েলে প্রায় এক ডজন নেপালি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতেও সরকার সতর্কতা জোরদার করেছে।
এদিকে দোহায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাস ইরানে থাকা নেপালি নাগরিকদের উদ্দেশে পৃথক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিজেদের আবাসনের নিকটবর্তী নির্ধারিত নিরাপদ আশ্রয়স্থলের কাছাকাছি থাকতে হবে। স্থানীয় সংবাদ, সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সতর্কবার্তার উপরও নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে লক্ষাধিক নেপালি কর্মরত রয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, বিদেশে থাকা নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
_____

