মার্কিন-ইজরায়েল হামলার জেরে বাড়তে পারে বিশ্ববাজারে তেলের দাম

নয়াদিল্লি, ২৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বৃহৎ সামরিক অভিযানের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রফতানিতে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করাকে সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বলে ঘোষণা করেন। এর ফলে ওই অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমন্বিত মার্কিন-ইজরায়েল হামলার ফলে বাজারে ‘ওয়ার প্রিমিয়াম’ যুক্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে তেলের দামে। ইতিমধ্যেই শুক্রবার বাণিজ্য শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭২.৪৮ ডলারে স্থির হয়েছে।

বার্কলেজ ব্যাংক জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্য সরবরাহ ব্যাঘাত ঘটলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে উত্তেজনা বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন নাও ঘটতে পারে বলে তারা মনে করছে।

এদিকে এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে ভারত উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বর্তমানে বড় অংশের আমদানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে না। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির (ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম) কাছে কয়েক সপ্তাহের মজুত রয়েছে এবং একাধিক রুট দিয়ে সরবরাহ অব্যাহত আছে।

ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি বিল বৃদ্ধি পায় এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ পড়ে, যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।

তবে ভারত যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার মতো অঞ্চল থেকেও আমদানি বাড়িয়েছে এবং কৌশলগত তেল ভান্ডার গড়ে তুলেছে। পুদুরে ২.২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন, বিশাখাপত্তনমে ১.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং ম্যাঙ্গালুরুতে ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রতীরবর্তী চাঁদিখোলে আরও একটি কৌশলগত ভান্ডার তৈরি হচ্ছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে এই কৌশলগত ভান্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে জাতীয় তেল সংস্থাগুলিকে স্বস্তি দিতেও এই মজুত কাজে লাগানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply