বন্ধন ব্যাংকের চড়িলাম শাখার পরিষেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ দম্পতি

চড়িলাম, ২৮ ফেব্রুয়ারি : দক্ষিণ চড়িলাম মেত্তামুড়া এলাকায় এক দরিদ্র দম্পতি বন্ধন ব্যাংক-এর চড়িলাম শাখার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দিনমজুর সুদীপ সরকার ও তাঁর স্ত্রী বুল্টি কর সরকার।

অভিযোগ অনুযায়ী, সুদীপ সরকারের মা অনিতা সরকার ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর চড়িলাম শাখা থেকে এক লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে ১,২৮০ টাকা করে মোট ৯৬টি কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। পরিবারের দাবি, তারা নিয়মিতভাবে কখনও অনলাইনে, কখনও নগদে মোট ৮১টি কিস্তি পরিশোধ করেছেন এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথি তাঁদের কাছে রয়েছে।

সুদীপবাবুর বক্তব্য, ঋণ নেওয়ার পর প্রথম যে ১,২৮০ টাকার কিস্তি দেওয়া হয়, সেটি ব্যাংকের হিসাবে জমা পড়েনি। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্মী বাড়িতে এসে ঋণের বইয়ে এন্ট্রি করে টাকা নিয়ে যান। সম্প্রতি চলতি মাসের ২০ তারিখ তাঁরা বাকি কিস্তি একসঙ্গে পরিশোধ করতে চড়িলাম শাখায় গেলে হিসাবের বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে।

দম্পতির দাবি, ব্যাংকের হিসাবে দেখানো হয় আরও ১৯,২০০ টাকা দিলেই ঋণ পরিশোধ সম্পূর্ণ হবে। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে ২২,২০০ টাকা আদায় করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা কর্তৃপক্ষ নাকি ‘হলিডে ইন্টারেস্ট’ বাবদ ওই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা জানায়।

সুদীপ সরকার প্রশ্ন তোলেন, প্রতি সপ্তাহে নিয়ম মেনে কিস্তি দেওয়ার পরেও কীভাবে ‘হলিডে ইন্টারেস্ট’ ধার্য করা হয়। তাঁর দাবি, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টে প্রথম কিস্তির টাকা জমার কোনও উল্লেখ নেই। “আমাদের কষ্টার্জিত টাকা কোথায় গেল?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ব্যাংকে গেলেও তাঁদের ঘুরতে হয়েছে। প্রতি শুক্রবার শাখায় আসা এরিয়া ম্যানেজারের কাছেও তাঁরা লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। দম্পতির বক্তব্য, এর আগে দক্ষিণ চড়িলাম এলাকার আরও এক গ্রাহকের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল এবং সংবাদ প্রকাশের পর নথিপত্র সংশোধন করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মত, এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি না হলে শাখার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে বন্ধন ব্যাংকের চড়িলাম শাখা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply