নয়াদিল্লি, ২৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): দিল্লির আবগারি নীতি মামলায় আদালতে খালাস পাওয়ার পর আপ জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল-এর মন্তব্যকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। শনিবার তিনি বলেন, “ও যা বলুক, তাতে কী আসে যায়? গণতন্ত্রে তার কথা বলার স্বাধীনতা আছে।”
হিমাচল প্রদেশের কাংড়া বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজিজু বলেন, “অরবিন্দ কেজরিওয়াল বহু বছর ধরেই এ ধরনের মন্তব্য করে আসছেন। ওগুলোর কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তিনি হালকাভাবে নানা কথা বলেন। তাঁর দাবির মধ্যে কোনও সত্যতা নেই। সংবাদমাধ্যমে থাকতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা গণতন্ত্র, তাঁর কথা বলার অধিকার আছে।”
উল্লেখ্য, দিল্লির একটি আদালত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া-সহ ২২ জনকে আবগারি নীতি মামলায় অব্যাহতি দিয়েছে।
আদালতের রায় প্রসঙ্গে রিজিজু বলেন, “এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোনও আদালতের নির্দেশে যদি ত্রুটি থাকে, তা হলে উচ্চতর আদালত বা বৃহত্তর বেঞ্চে যাওয়া যায়। তথ্য যথাযথভাবে বিবেচিত না হলে আপিল করা সম্ভব। পরবর্তী পর্যায়ে সংশোধন করে সঠিক রায় দেওয়া হয়।”
শুক্রবার আদালতের নির্দেশের পর আবেগঘন কেজরিওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, এই রায় প্রমাণ করে তিনি, সিসোদিয়া এবং আম আদমি পার্টি ‘কট্টর ইমানদার’। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মিলে স্বাধীন ভারতের “সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” করেছিলেন। তাঁর দাবি, আপ-কে শেষ করে দিতে দলের পাঁচ শীর্ষ নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল এবং প্রথমবার কোনও কর্মরত মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে ‘টেনে বের করে’ জেলে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে কেজরিওয়াল শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, দিল্লিতে আপ-কে হারাতে না পেরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমি এক পয়সাও বেআইনি উপার্জন করিনি। আমি ওদের মতো নই।”
এছাড়া তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “মোদীজি সাহস থাকলে দিল্লিতে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করুন। বিজেপি ১০টির বেশি আসন পেলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
______

