আগরতলা, ১৪ এপ্রিল: গত ১২ এপ্রিল ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) নির্বাচন রাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত হলেও, সাব্রুম মহকুমায় ইভিএম বহনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ পূর্ব মহুরীপুর-ভূরাতলী এবং ২৮ শিলাছড়ি-মনুবনকুল কেন্দ্রের নির্বাচনী আধিকারিকরা সামসিং স্কুল থেকে একটি বাসে করে ইভিএম নিয়ে সাব্রুম মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে স্ট্রং রুমের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তিপ্রা মথার কর্মীরা অভিযোগ তোলেন যে, বাসটিতে বহিরাগত লোকজনকে তোলা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বাসে হামলার চেষ্টা করা হয় বলে জানা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে তিপ্রা মথার বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। অভিযোগ, লাঠিচার্জ চলাকালীন এক নিরাপত্তারক্ষী তিপ্রা মথার মহিলা সংগঠনের নেত্রী তথা তিপ্রা উইমেন্স ফেডারেশন (টিডব্লিউএফ)-এর দক্ষিণ জেলা সদস্য সুপ্রিয়া চৌধুরীকে পেছন থেকে লাথি মারেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এ ঘটনার পর আজ, তিপ্রা মথার নেতৃত্বে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, টিডব্লিউএফ-এর সভানেত্রী মনিহার দেববর্মা এবং অন্যান্য সংগঠনের নেতৃত্বরা দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা ১২ এপ্রিল সাব্রুম এসডিএম অফিসের সামনে স্ট্রং রুমের বাইরে সুপ্রিয়া চৌধুরীর উপর বেআইনি হামলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং নানা ধরনের লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন।
এছাড়াও, তাঁরা কলাছড়ায় সুপ্রিয়া চৌধুরীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রার্থী দেবজিৎ ত্রিপুরা ও মনীন্দ্র ত্রিপুরা।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নীরবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি আরও জানান, এসপি ও ডিজির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।



















