News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • এডিসি নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন: বামফ্রন্ট
Image

এডিসি নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন: বামফ্রন্ট

আগরতলা, ১৪ এপ্রিল: টিটিএএডিসি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় থেকেই বিভিন্ন স্থানে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ভোটের আগের দিনও একাধিক এলাকায় তিপরা মথা ও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। এর জেরে অনেক ক্ষেত্রেই ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

মানিক দে আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সামনে এসেছে। তবুও নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ইভিএম ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে পর্যাপ্ত ইভিএম মজুত থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রদেশ থেকে অতিরিক্ত ইভিএম আনার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি ঘিরে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বামফ্রন্টের দাবি, নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিয়মিত টহলদারি চালু করা প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি, বুথগুলিতে ওয়েবকাস্টিং এবং স্ক্যানার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ।

এদিকে, ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হলেও এখন নজর ভোট গণনার দিকে। এই প্রেক্ষাপটে গণনাপর্বকে ঘিরে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছে বামফ্রন্ট। কমিশনার মনোজ কুমারের কাছে দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন চলাকালীন যেসব অনিয়ম ও অশান্তির অভিযোগ উঠেছে, তা মাথায় রেখে গণনাপর্বে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে গণনাপর্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সমস্ত গণনাকেন্দ্রে ভিতরে ও বাইরে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সর্বত্র সিসি ক্যামেরা নজরদারি চালু রাখা, গণনা এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাতায়াতের সময় পুলিশি সুরক্ষা প্রদান, গণনাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা রাখা এবং ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটে প্রদর্শিত ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখার সুযোগ ও তা নথিভুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।

পাশাপাশি, নির্বাচন পরবর্তী সময়েও বিরোধী দলের উপর সম্ভাব্য প্রতিহিংসামূলক হামলা রুখতে রাজ্যে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অন্তত এক মাস ধরে রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।

Releated Posts

ত্রিপুরার নিম্ন আদালতে ৬৮ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন, এক বছরে নিষ্পত্তি ১.৩৩ লক্ষ

আগরতলা, ২৮ আগস্ট: ত্রিপুরার নিম্ন আদালতগুলিতে বর্তমানে ৬৮,২৭৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলিতে মোট…

ByByReshmi Debnath Aug 28, 2026

সরকারি কলেজে ৩২৫ শিক্ষক পদ শূন্য, বিধানসভায় জানাল রাজ্য সরকার

আগরতলা, ২৮ আগস্ট: ত্রিপুরার সরকারি কলেজগুলিতে শিক্ষক সংকট অব্যাহত। রাজ্যের ৪১টি সরকারি কলেজে মোট ৩২৫টি শিক্ষক পদ শূন্য…

ByByReshmi Debnath Aug 28, 2026

ত্রিপুরামুখী ১২০০ বোতল নিষিদ্ধ কফসিরাপ উদ্ধার, কালোবাজারি মূল্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা, গ্রেফতার তিন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ আগস্ট: ত্রিপুরামুখী নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগে বড়সড় সাফল্য পেল অসমের বাজারিছড়া থানার চুরাইবাড়ি পুলিশ।…

ByByReshmi Debnath Aug 28, 2026

নেপালের বন্যায় ৩২০ ভারতীয় নাগরিকের এখনও খোঁজ নেই, চিনের দিকে থাকা ৪০০ জন নিরাপদ

নয়াদিল্লি, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর এখনও ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।…

ByBySandeep Biswas Aug 28, 2026
Scroll to Top