উদয়পুরে ডিএম অফিসের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ প্লান্টের উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক, রাজ্য জুড়ে সৌর বিদ্যুতের নতুন অধ্যায়

আগরতলা ২৭ ফেব্রুয়ারি: সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকের বাড়ির ছাদকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রূপান্তরের পর এবার সরকারি কার্যালয় গুলিকেও সৌরশক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনছে রাজ্য সরকার।  কেন্দ্রীয় পুনঃনবীকরণ শক্তি উন্নয়ন মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক কার্যালয়ের ছাদে সৌর সংকল্প প্রকল্পের অধীন গ্রিড কানেক্টেড রুফটপ সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের কাঁধে এই গুরু দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে উদয়পুরে গোমতী জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়ের ছাদে সৌর সংকল্প প্রকল্পের অধীন ১৫ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন গ্রিড কানেক্টেড রুফটপ সোলার পাওয়ার প্লান্টের শুভ উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় পুনঃনবীকরণ শক্তি উন্নয়ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক । অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলার জেলাশাসক রিংকু লাথার, আইএএস, বিদ্যুৎ নিগমের গোমতী জেলার অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার নন্দিতা দাস এবং রাজ্যের সূর্য ঘর যোজনার ভারপ্রাপ্ত নোডাল অফিসার সঞ্জীব নন্দী মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শ্রীপদ নায়েক স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যৎ শক্তির মানচিত্রে সৌরশক্তিই প্রধান ভরকেন্দ্র হতে চলেছে। সরকারি দপ্তরগুলিকে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, বরং প্রশাসনিক কাঠামোকেও পরিবেশ বান্ধব পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি দৃঢ় পদক্ষেপ।

তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের নবায়নযোগ্য শক্তি নীতিকে বাস্তবায়িত করতে রাজ্যের এই উদ্যোগ এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। উল্লেখ্য, গোমতী জেলাই হল রাজ্যের মধ্যে প্রথম জেলা, যেখানে এই কর্মসূচির সূচনা হলো। বিদ্যুৎ নিগম সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের আটটি জেলায় জেলাশাসকের কার্যালয়ে মোট ৩০৪ কিলোওয়াট ক্ষমতার গ্রিড কানেক্টেড রুফটপ সোলার প্লান্ট নির্মাণে প্রায় ২ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। গোমতীতে ১৫ কিলোওয়াটের পাশাপাশি সিপাহীজলায় ৪৯ কিলোওয়াট, দক্ষিণ জেলায় ৩৫ কিলোওয়াট, উত্তর জেলায় ৯০ কিলোওয়াট, খোয়াইয়ে ১৫ কিলোওয়াট, উনকোটিতে ২২ কিলোওয়াট, ধলাইয়ে ২৫ কিলোওয়াট এবং পশ্চিম ত্রিপুরায় ৫৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্লান্ট স্থাপন করা হবে।

উদয়পুরে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র মন্ত্রীর হাত ধরে এই প্রকল্পের শুভ সূচনায় উচ্ছ্বসিত রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ এই উদ্যোগকে রাজ্যের শক্তি নীতির এক দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সরকারি কার্যালয় যদি নিজেদের বিদ্যুৎ নিজেরাই উৎপাদন করতে পারে, তাহলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে। তিনি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েককে গোমতীতে প্রকল্পের সূচনা করার জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং এই সমন্বিত প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।

মন্ত্রী রতনলাল নাথ আরও বলেন, শুধু সরকারি দপ্তর নয়, সাধারণ মানুষকেও এই আন্দোলনের অংশীদার হতে হবে। তিনি রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আহ্বান জানান, পিএম সূর্য ঘর যোজনার আওতায় নিজেদের বাড়িতে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে আয়ের পথও সুগম করতে। তাঁর কথায়, বিদ্যুৎ ভোক্তার বাড়িই হতে পারে আগামী দিনের শক্তিকেন্দ্র।

গ্রিড কানেক্টেড রুফটপ সোলার ব্যবস্থার বড় সুবিধা হলো উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি গ্রিডে যুক্ত থাকে। ফলে দপ্তরের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ আগে ব্যবহার হয়, অতিরিক্ত অংশ গ্রিডে ফিরে যায়। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, আর্থিক লাভ এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ সম্ভব।

রাজ্যের প্রশাসনিক ভবনগুলিতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগকে শক্তি স্বনির্ভরতার পথে এক বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূর্যের আলোকে সম্পদে রূপান্তর করার এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করছে, নবায়নযোগ্য শক্তি আর কেবল বিকল্প নয়—এটাই আগামী দিনের মূল শক্তি।

Leave a Reply