পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা: রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে সমাধানের আহ্বান রাশিয়া-র

মস্কো, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সশস্ত্র সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল রাশিয়া। শুক্রবার রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা উভয় দেশকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে মতভেদ মেটানোর আহ্বান জানান।

এক্স-এ পোস্ট করা বিবৃতিতে জাখারোভা বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের তীব্র বৃদ্ধি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা তাদের এই বিপজ্জনক মুখোমুখি অবস্থান পরিত্যাগ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানাই, যাতে সমস্ত মতভেদ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা যায়।

বৃহস্পতিবার সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ার পর পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ শুরু করে। কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে একাধিক এলাকায় পাকিস্তান বিমান হামলা চালায় বলে জানা গিয়েছে। এর জবাবে আফগানিস্তানও পাকিস্তানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে।

এদিকে ইরান-এর বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি রমজান মাসের প্রেক্ষাপটে দুই দেশকে ‘সদ্ভাবপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ কাঠামো’র মধ্যে থেকে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে প্রয়োজনে তেহরানের সহায়তার আশ্বাসও দেন।

অন্যদিকে চীন-ও সংঘাত বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একে অপরের অবিচ্ছেদ্য প্রতিবেশী, এবং উভয়ই চীনেরও প্রতিবেশী দেশ। তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে সংযম প্রদর্শনের পরামর্শ দেন এবং জানান, চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

এর আগে তালিবান সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেন, আফগান বিমান বাহিনী ইসলামাবাদ, নওশেরা, জামরুদ ও অ্যাবোটাবাদে পাকিস্তানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সীমান্তে পাল্টা অভিযানে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং দুটি ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে। এই সংঘর্ষে আটজন আফগান সেনা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, নানগরহার প্রদেশে একটি শরণার্থী শিবিরে পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আফগান নাগরিক আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পাকিস্তানের প্রধান দৈনিক ডন জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর “উসকানিমূলক গুলিবর্ষণ”-এর জবাব হিসেবেই ইসলামাবাদ এই সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক তৎপরতা উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply