কাবুল, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘর্ষ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করলেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তিনি উভয় দেশকে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন।
আফগানিস্তানের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুতেরেস দুই পক্ষকেই সামরিক সংঘাত এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার আহ্বান জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ শুরু করে। পাকিস্তানের প্রধান দৈনিক ডন জানায়, আফগান বাহিনীর “উসকানিমূলক গুলিবর্ষণ”-এর জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়।
অন্যদিকে, শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে যে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর পাল্টা অভিযানে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং দুটি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে। ডুরান্ড লাইনের ওপারে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর একাধিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে মন্ত্রকের দাবি।
আফগান মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বহু হালকা ও ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস এবং একটি বড় সামরিক পরিবহণ যান দখলের কথাও জানানো হয়েছে। তবে এই অভিযানে আটজন আফগান সেনা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া নানগরহার প্রদেশের একটি শরণার্থী শিবিরে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আফগান নাগরিক আহত হয়েছেন বলে কাবুলের দাবি।
এদিকে তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আল আরাবিয়া ইংরেজিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের বিমান হামলাকে “লজ্জাজনক কাজ” বলে আখ্যা দেন এবং সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর দাবি, হামলায় জঙ্গি নয়, সাধারণ নাগরিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
২২ ফেব্রুয়ারিও আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অভিযোগ করেছিল যে নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশের আবাসিক এলাকায় পাকিস্তানি বিমান হামলায় বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ইসলামাবাদের দাবি, তারা পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের হস্তক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।

