আগরতলা, ২৭ ফেব্রুয়ারী: রাজ্যে আট বছরের শাসনকালে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা চরম আকার ধারণ করেছে। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস-এর মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। তিনি রাজ্য সরকার, এডিসি এবং পুরনিগম সহ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।
প্রবীর চক্রবর্তীর দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যের প্রায় সব দফতরেই বাজেট বরাদ্দ, কেন্দ্রীয় প্রকল্প, ডোনার মন্ত্রক, নীতি আয়োগ, বিশ্বব্যাঙ্ক এবং এডিবি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অডিট, সিএজি রিপোর্ট এবং সামাজিক নিরীক্ষায় একাধিক অসঙ্গতির তথ্য উঠে এলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। কোথাও কোথাও তদন্তের কথা বলা হলেও তার বাস্তব ফলাফল রাজ্যবাসী জানতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক বেনিয়মের ফলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আদিবাসী কল্যাণ ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাচ্ছে। এমনকি কিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতরে বেতন প্রদানে অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। “ডাবল ইঞ্জিন” সরকারের বড় বড় বিনিয়োগের দাবির পরও বাস্তবে রাজ্যে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস মুখপাত্র।
চাকরির প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ রেখে চুক্তিভিত্তিক ও অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। এজেন্সির মাধ্যমে স্বল্প বেতনে নিয়োগ এবং আবেদন ফি বাবদ বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলেন তিনি। এডিসিতেও গত চার বছরে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেন প্রবীর চক্রবর্তী।
এডিসি পরিচালনা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সংরক্ষিত এলাকার জমি ও সম্পদ আইন উপেক্ষা করে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার পক্ষের নেতাদের মধ্যেও পরস্পরবিরোধী মন্তব্য সামনে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
পৌর সংস্থাগুলির কার্যক্রম নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস মুখপাত্র। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন দফতরের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেশের ৭১টি শহর বিভিন্ন শ্রেণিতে স্বীকৃতি পেলেও তথাকথিত “স্মার্ট সিটি” আগরতলার নাম সেখানে নেই। গত ১৭ জুলাই দিল্লির বিজ্ঞান ভবন-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শহরগুলিকে সম্মানিত করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগরতলা পুরনিগমে ১৬ কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি। স্মার্ট সিটি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান দেওয়া হলেও বাস্তবে শহরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। নিকাশি ব্যবস্থা, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং বর্ষাকালে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য জলবাহিত রোগের পরিসংখ্যানে ত্রিপুরার সংখ্যা উদ্বেগজনক। দূষণ ও অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
সর্বোপরি, রাজ্য সরকার, এডিসি, পুরনিগম, পুরপরিষদ ও নগর পঞ্চায়েতগুলিকে তাদের আট বছরের কার্যক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের আহ্বান জানান প্রবীর চক্রবর্তী। একই সঙ্গে নাগরিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।

