আগরতলা, ২৭ ফেব্রুয়ারী: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মূল ভিত্তি জবাবদিহিতা। জনপ্রতিধিদের এর উপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। শুক্রবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে সকল শ্রেণীর জনগণের প্রতি জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। তাঁর নিদান, ফন্দিফিকির অবলম্বনে ভোটে জেতা ভুলে যান। গণদেবতারা সব দেখছেন।
এদিন তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডুর সাথে সৌর্হাদপূর্ণ আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি রাজ্যে এসে আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন কার্যকর্তাদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করা এবং বিরোধীদের সর্বদাই সম্মান দেওয়া।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, জবাবদিহিতা ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচকদের সাথে সবসময় হাসিমুখে কথা বলা এবং তাঁদের সমস্যায় ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। তাঁর সাফ কথা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচকমন্ডলীর কথা শুনতেই হবে।
তাঁর উপদেশ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মূল ভিত্তিই হল জবাবদিহিতা। এর উপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিককে অধিকার দেওয়া হয়েছে। তাই নির্বাচকদের কথা শুনতেই হবে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের পরার্মশ দিয়ে বলেন, সারাবছর নিজ নিজ এলাকায় যেত বেশি মানুষের কাছে যাবেন, তাঁদের কল্যাণ ভাববেন এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত করবেন তবেই গণদেবতারা আপনাদের মনে রাখবেন।
তাঁর সাফ কথা, যাঁরা ভোট দেন নি তাঁদের কথা শোনবো না ত্রিপুরায় বহুদিনের এই সংস্কৃতি ধরে রাখা উচিত হবে না। তাঁর হুঁশিয়ারি, ফন্দিফিকির অবলম্বনে ভোটে জেতা ভুলে যান। কারণ, মানুষ সবেই দেখছেন। কেউ যদি মনে করেন পেশির জোরে ভোটে জিতবেন তাহলে তিনি মূর্খের স্বর্গে বাস করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, মানুষের কথা যাঁরা শোনেন তাঁদের সকলেই মনে রাখেন। কারণ, গণতন্ত্রে গ্রহণযোগ্যতায় সবচেয়ে বড়। তিনি বলেন, বিকশিত ভারত গড়তে হলে ত্রিপুরাকে বিকশিত করতে হবে। তাই জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত এলাকা পরিদর্শনে যেতে হবে। শুধু তাই নয় সরকারি প্রকল্পেট বাস্তবায়নে তথ্যভিত্তিক ইতিবাচক প্রচার করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জনপ্রতিনিধিদের বুঝিয়েছেন, মানুষের সেবায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আপনাদের মনে রাখবে এমন ছাপ রেখে যাবেন।

