সিপিআই(এম) পলিটব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু, বিজয়ন-সহ শীর্ষ নেতাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

নয়াদিল্লি/তিরুবনন্তপুরম, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): সিপিআই(এম)-এর পলিটব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুক্রবার নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে। এই বৈঠকে দুইবারের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী থমাস আইজ্যাক, বর্তমান বিধায়ক কে.কে. শৈলজা, ৮০ বছর বয়সি মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং পলিটব্যুরো সদস্য এ. বিজয়ারাঘবন-সহ একাধিক বর্ষীয়ান নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্টতা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রার্থী নির্বাচন এবার বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও প্রবীণ নেতাদের নির্বাচনে লড়ানো হবে কি না এবং হলে কোন আসন থেকে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পলিটব্যুরোর আলোচনার পরই নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। বয়স ও মেয়াদ সংক্রান্ত দলীয় নীতিকে ঘিরে জল্পনাও চলছে।

কন্নুরে সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকা প্রকাশের আগেই অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলছে। জানা গেছে, ম্যাটান্নুর আসন থেকে আবার টিকিট না-ও পেতে পারেন শৈলজা। এ নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট এবং ওই আসন না পেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না-ও করতে পারেন বলে রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।

থমাস আইজ্যাক, যিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও, সূত্র অনুযায়ী আবার নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করায় তা চমক সৃষ্টি করেছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল হলেও, শেষবারের মতো সুযোগ চাইছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি।

থালিপারাম্বা কেন্দ্র নিয়েও মতভেদ দেখা দিয়েছে। রাজ্য সম্পাদক এম.ভি. গোবিন্দন সাংবাদিক থেকে রাজনীতিতে আসা এম.ভি. নিকেশ কুমারকে প্রার্থী করতে আগ্রহী বলে খবর। যদিও জেলা পর্যায়ে আরও কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কন্নুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন নিকেশ কুমার।

ডিসেম্বরের স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলীয় অন্দরে চাপ বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই পলিটব্যুরো বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামার আগে দল কীভাবে ধারাবাহিকতা, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রাখবে, সেই বার্তাও এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্ব, বিশেষত পিনারাই বিজয়ন ও এম.ভি. গোবিন্দনের মতই প্রাধান্য পাবে, নাকি জাতীয় নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করবে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply