নারী নির্যাতন রুখতে রাজ্য সরকারের নয়া উদ্যোগ, ১০টি পঞ্চায়েত এলাকায় চালু হচ্ছে নারী আদালত, মন্ত্রিসভার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

আগরতলা, ২৬ ফেব্রুয়ারী : নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত ও সংবেদনশীল বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। নির্যাতিতা নারীদের সময়োপযোগী ন্যায়বিচার দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্যের ১০টি পঞ্চায়েত এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হচ্ছে নারী আদালত। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক লজ্জা বা জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নারীরা অভিযোগ জানাতে দ্বিধা বোধ করেন। তাই নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত ও সংবেদনশীল বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের ১০টি পঞ্চায়েত এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হচ্ছে নারী আদালত। সেগুলো হল, কদমতলা ব্লকের অধীন ফুলবাড়ি পঞ্চায়েত, চন্ডিপুর ব্লকের অধীন শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত, খোয়াই আরডি ব্লকের অধীন পশ্চিম সোনাতলা পঞ্চায়েত, বামুটিয়া ব্লকের অধীন লেম্বুছড়া পঞ্চায়েত, নলছড় ব্লকের অধীন খেদাছড়া পঞ্চায়েত, টেপানিয়া পঞ্চায়েত, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিবেকানন্দ পল্লী পঞ্চায়েত এবং ধলাই জেলায় তিনটি পঞ্চায়তে নারী আদালত চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নারী সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং স্থানীয় স্তরে আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০টি পঞ্চায়েত এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই আদালত চালু হবে। প্রতিটি নারী আদালতে থাকবে ৯ সদস্যের বিচারমন্ডলী কমিটি। পুরনো দিনের শালিসি সভার আদলে এই কাঠামো তৈরি করা হলেও তা হবে আইনসম্মত ও সংগঠিত ব্যবস্থার আওতায়। কমিটিতে গ্রামের প্রতিষ্ঠিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সহ আইনের সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাও থাকবেন।

Leave a Reply