আফগান শরণার্থীদের জোরপূর্বক বিতারণে প্রতিবেশী দেশগুলিকে তীব্র সমালোচনা আফগান মন্ত্রীর

কাবুল, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : আফগান শরণার্থীদের জোরপূর্বক বিতারণের নীতির জন্য প্রতিবেশী দেশগুলিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন আফগানিস্তানের কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আতাউল্লাহ ওমারি। তিনি অভিযোগ করেন, মানবিক নীতি, মানবাধিকার এবং শরণার্থী অধিকারের পরিপন্থীভাবে শরণার্থীদের বিতারণ করা হয়েছে।

আফগানিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে ৪৫ লক্ষেরও বেশি আফগান শরণার্থী দেশে ফিরে এসেছেন বলে জানান ওমারি। তিনি বলেন, আমাদের ভাইদের জোর করে ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর তারা আশ্রয় পেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানবিক নীতির লঙ্ঘন করে তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগান শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন অব্যাহত থাকায় দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া মানুষের পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি ফিরে আসা বেশ কয়েকজন শরণার্থী জানান, তাঁদের জোর করে বিতারণ করা হয়েছে এবং নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।

গত জানুয়ারিতে পাকিস্তানে বসবাসকারী আফগান শরণার্থীরা পাকিস্তান সরকার ও আফগান কর্তৃপক্ষের কাছে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং সম্মানের সঙ্গে ধাপে ধাপে দেশে ফেরার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁদের অভিযোগ, দ্রুত বিতারণ ও বাড়তি চাপের ফলে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। হাজি নজর নামে এক শরণার্থী বলেন, পাকিস্তান সরকার আমাদের অন্তত তিন মাস সময় দিক, যাতে আমরা সুশৃঙ্খল ও ধাপে ধাপে দেশে ফিরতে পারি। বর্তমানে আফগানরা নানা সংকটে রয়েছেন।

শরণার্থী অধিকারকর্মী আল্লাহ মির মিয়াখাইল বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিভিন্ন জায়গায় আফগান শরণার্থীদের গ্রেফতার ও বিতারণ করছে। তাঁর মতে, অধিকাংশ শরণার্থীর ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। অনেক পরিবার প্রুফ অব রেজিস্ট্রেশন (পিওআর) কার্ডধারী হলেও এখন সেই কার্ডগুলির মেয়াদ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

শরণার্থী অধিকারকর্মীরা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া স্বেচ্ছাসেবী ও ধাপে ধাপে হওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সহায়তায় তা সম্পন্ন করা প্রয়োজন, যাতে আফগানিস্তানে নতুন মানবিক সংকট সৃষ্টি না হয়। আরেক অধিকারকর্মী আলি রেজা করিমি বলেন, বৈধ পরিচয়পত্রের অভাবে বহু আফগান শরণার্থী মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।