আগরতলা, ৪ ফেব্রুয়ারী: কাঞ্চনমালা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের হোমিওপ্যাথিক বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নীলাঞ্জিতা চন্দের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি চরম অবহেলা প্রদর্শন করছেন।
সানিয়া ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাসের বেশিরভাগ সময়ই ডা. নীলাঞ্জিতা চন্দ হাসপাতালে উপস্থিত না থেকে বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকেন। যেদিন তিনি হাসপাতালে আসেন, সেদিনও সরকারি নির্দেশিকা উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছেমতো সময়মতো আসেন ও চলে যান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রোগী দেখার কথা থাকলেও অভিযোগ, ডা. নীলাঞ্জিতা চন্দ প্রায়শই সকাল ১০টার আগে হাসপাতালে আসেন না এবং দুপুর ১টার মধ্যেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
ফলে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে বহু রোগীকে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, যেদিন চিকিৎসক হাসপাতালে আসেন না, সেদিন তো পরিষেবা মেলেই না, আবার যেদিন আসেন সেদিনও দুপুরের পর তাঁকে হাসপাতালে পাওয়া যায় না।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, একজন চিকিৎসকের মূল দায়িত্ব রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হলেও ডা. নীলাঞ্জিতা চন্দ তা উপেক্ষা করে অন্যান্য কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বুধবার তিনি হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও সকাল ১১টার সময় এক রোগী চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে তাঁকে চেম্বারে পাননি। পরে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের মাঠ ও আশপাশে মোবাইল ফোনে কথোপকথনে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন চিকিৎসক কাঞ্চনমালা হাসপাতালে প্রয়োজন নেই।” স্থানীয়দের দাবি, ডা. নীলাঞ্জিতা চন্দ যদি নিয়মিতভাবে অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে এলাকার সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন কীভাবে?
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. নীলাঞ্জিতা চন্দকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় এবং তাঁর জায়গায় একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসককে কাঞ্চনমালা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের হোমিওপ্যাথিক বহির্বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

