ঢাকা, ২৭ ডিসেম্বর : বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও রাজবাড়ি জেলার দুটি হিন্দু পুরুষের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক আন্দোলন চলছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা, বিশেষ করে বাজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এই দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম ছিল দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডল, যারা সম্প্রতি নিহত হন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জানিয়েছে, দুই ভারতীয় নাগরিক সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশ করার অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্ররা ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগে এই ধরনের পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি-র চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান সম্প্রতি ১৭ বছর পর দেশ ফিরে এসেছেন। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকেই বিএনপি’র শক্তি বৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তারেক রহমানের আগমন শুধু বিএনপির প্রভাব বৃদ্ধি করেনি, বরং তা দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারের কাছে নির্বাচনী অধিকার রক্ষা করতে আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার মধ্যে দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডলের হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, এবং হিন্দু সংগঠনগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে।
এ পর্যন্ত দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একদিকে যেমন উত্তপ্ত, তেমনি সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন নানা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে। তবে, সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

