নয়াদিল্লি, ১ ডিসেম্বর: দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে জৈবিক হুমকি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠছে জানিয়ে, বৈশ্বিক জৈব নিরাপত্তা জোরদার ও বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশন আধুনিকায়নের জন্য জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।
‘বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশনের ৫০ বছর: গ্লোবাল সাউথের জন্য বায়োসিকিউরিটি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে প্রাকৃতিক, দুর্ঘটনাজনিত বা ইচ্ছাকৃত—যে কোনো ধরনের জৈবিক হুমকি এখন বাস্তব উদ্বেগের কারণ।
জয়শঙ্কর জানান, ৫০ বছর পুরনো এই কনভেনশনের মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই নেই। “বিডব্লিউসি-তে কোনো কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা নেই, নেই স্থায়ী প্রযুক্তি সংস্থা বা নতুন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ওপর নজরদারি করার পদ্ধতি। এই ঘাটতিগুলো পূরণ করা জরুরি,” তিনি বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার মূল নীতিটি এখনও সমান প্রাসঙ্গিক, তবে জেনোম এডিটিং, সিন্থেটিক বায়োলজি ও এআই–ভিত্তিক বায়ো ডিজাইনের মতো প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে কনভেনশনকে আধুনিক করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নজরদারি, ল্যাব অবকাঠামো ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতার ঘাটতি কেবল তাদের নয়, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “জৈব নিরাপত্তা যদি অসম হয়, তবে বৈশ্বিক নিরাপত্তাও অসম। পরবর্তী ৫০ বছরে বিডব্লিউসি গঠনে গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্বের ৬০% ভ্যাকসিন ভারতেই প্রস্তুত হয়, ২০% জেনেরিক ওষুধ বিশ্ব বাজারে সরবরাহ করে ভারত, আফ্রিকার জেনেরিক ওষুধের ৬০% ভারতের উৎপাদন, বায়োটেক স্টার্টআপ- ২০১৪ সালে ৫০ থেকে এখন প্রায় ১১,০০০ – বিশ্বের ৩য় বৃহৎ কেন্দ্র, আইসিএমআর ও ডিবিটি-এর বিএসএল-3 ও বিএসএল-4 ল্যাব জৈব হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম। কোভিড মহামারির সময় ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ উদ্যোগে ভারত ১০০-রও বেশি দেশে প্রায় ৩০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছিল, বলে স্মরণ করান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানান যে ভারতের প্রস্তাবিত ‘ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ জৈব নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই কাঠামোর আওতায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জীবাণু শনাক্তকরণ, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য গবেষণার তদারকি, দেশীয় রিপোর্টিং ব্যবস্থা, ঘটনার ব্যবস্থাপনা এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জৈবিক জরুরি পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা “দ্রুত, বাস্তবসম্মত এবং সম্পূর্ণ মানবিক” পদ্ধতিতে প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।
শেষ বক্তব্যে জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের কনভেনশনকে আধুনিকায়ন করতে হবে, বিজ্ঞানের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে হবে এবং সব দেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে যাতে তারা জৈব ঝুঁকি শনাক্ত, প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করতে পারে। ভারত প্রস্তুত।”
তিনি সম্মেলনে উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে আলোচনাগুলো জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য বিডব্লিউসি ওয়ার্কিং গ্রুপ ও স্টেট পার্টিজ মিটিংয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

