নাগাল্যান্ড রাজ্য দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

কোহিমা, ১ ডিসেম্বর : নাগাল্যান্ডের ৬৩তম রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুসহ দেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট নেতা রাজ্যের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৩ সালে ভারতের ১৬তম রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে নগাল্যান্ড। এ বছর রাজ্য দিবসের সঙ্গে শুরু হয়েছে দশদিনব্যাপী হর্নবিল উৎসব, যেখানে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সংগীত, হস্তশিল্প ও খাবারের মাধ্যমে নাগা উপজাতিদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি তুলে ধরা হচ্ছে।

এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,“নাগাল্যান্ডের জনগণকে রাজ্য দিবসের শুভেচ্ছা। সেবা, সাহস ও সহানুভূতিতে গড়ে ওঠা নাগা সংস্কৃতি দেশজুড়ে প্রশংসিত। বহু ক্ষেত্রে নাগাল্যান্ডবাসীরা নিজেদের দক্ষতা দেখিয়েছেন। আগামী দিনে রাজ্য আরও উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক।”

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নাগাল্যান্ড টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অগ্রগতি করছে। রাজ্যবাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগাল্যান্ডের প্রাণবন্ত ঐতিহ্য ও দৃঢ়তাকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রাজ্যটিকে “উৎসবের ভূমি” বলে আখ্যা দিয়ে উপজাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আশা ব্যক্ত করেন।

মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও নাগা পরিচয় রক্ষাকারী নেতাদের সম্মান জানিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

রাজ্যপাল অজয় কুমার ভল্লা রাজ্য দিবসে নাগা জনগণের দৃঢ়তা ও অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা, স্বচ্ছ শাসন ও সুযোগের বিস্তারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তি, সহযোগিতা ও সংলাপের মাধ্যমে নাগাল্যান্ড আরও এগিয়ে যাবে।”

তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে উদ্ভাবনকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখার আহ্বান জানান।

রাজ্যজুড়ে উদ্‌যাপন চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে। রাজ্যস্তরের প্রধান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে নগাল্যান্ড সিভিল সেক্রেটারিয়েট প্লাজায়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে। রাজ্যের উন্নয়নভিশনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে “দশকের পর দশক ধরে নাগাল্যান্ডের যাত্রা” প্রদর্শনীর, যেখানে নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন সময়ে গতিপথ ও ঐতিহাসিক বিবর্তন তুলে ধরা হবে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিশেষ উপস্থাপনার মাধ্যমে নাগা ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির নানা দিক প্রদর্শিত হবে, যা দর্শকদের আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৬৩ বছরের পথচলায় নাগাল্যান্ড আজ দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।