ঢাকা, ২৭ নভেম্বর : এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বৃহস্পতিবার মিজোরাম, অসম এবং গুজরাটে একাধিক স্থানীয় তল্লাশি চালিয়েছে, যা একটি বৃহৎ মাদক চক্রের সাথে সম্পর্কিত অর্থপাচার তদন্তের অংশ। এ অভিযানে মিজোরাম, অসম ও গুজরাটে ইডির বিভিন্ন দল তল্লাশি চালায়। ইডির আয়জল সাব-জোনাল অফিসের দল মিজোরামের আয়জল এবং চমফাই, অসমের দক্ষিণাঞ্চলীয় শ্রীভূমি জেলা ও গুজরাটের আহমেদাবাদে অভিযান পরিচালনা করে। এই তল্লাশির সময় নগদ ৩৫ লক্ষ রুপি এবং একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
এ তদন্তটি মিজোরাম পুলিশের এনডিপিএস আইনের অধীনে একটি এফআইআর থেকে উদ্ভূত, যার মধ্যে ৪.৭২৪ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মূল্য ১.৪১ কোটি রুপি। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় ব্যক্তির আর্থিক বিশ্লেষণ করে, তদন্তকারীরা মিজোরাম এবং গুজরাটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, গুজরাট ভিত্তিক কোম্পানিগুলি মিজোরামের মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্যুডোএফিড্রিন ট্যাবলেট এবং ক্যাফেইন অ্যানহাইড্রাস—যা মেথঅ্যামফেটামিন উৎপাদনের মূল উপাদান—সরবরাহ করেছিল। এছাড়াও, কলকাতাভিত্তিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে ক্যাফেইন অ্যানহাইড্রাসের চালান পাওয়া যায়।
তদন্তকারীরা আরও খুঁজে পেয়েছেন যে, এসব কেমিক্যাল মিজোরামের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি দিয়ে মিয়ানমারে প্রবাহিত হয়ে মেথ ল্যাবস তৈরিতে ব্যবহার করা হত, এবং এর পরবর্তী পণ্য ভারতেই পাচার করা হত।
এছাড়া, ইডি কর্মকর্তারা নরকো-হাওয়ালা অপারেটরদের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে ৫২.৮ কোটি রুপি ঋণ লেনদেনের খোঁজ পেয়েছে। এই টাকার লেনদেন অসম, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ঘটে।
মিজোরামের ৫১০ কিলোমিটার সীমান্ত মিয়ানমারের সাথে এবং ৩১৮ কিলোমিটার সীমান্ত বাংলাদেশে থাকায় চমফাই, সিয়াহা, লাওংটলাই, হনাথিয়াল, সাইটুয়াল এবং সেরচিপ এলাকা মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান গেটওয়ে হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মণিপুরের চুরাচান্দপুর, তেংনোপাল এবং চান্দেল জেলা এই মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

