নয়াদিল্লি, ১৬ নভেম্বর : অসমের মন্ত্রী আশোক সিংহালের ‘গোবি চাষ’ সম্পর্কিত পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রী যখন একটি ছবি শেয়ার করেন, সেখানে কৌতুকের সুরে “গোবি চাষ” নিয়ে আলোচনা করেন, তখন সেটি বিভিন্ন ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তোলে। পরে, এই পোস্টে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের প্রতিক্রিয়া আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
একজন ব্যবহারকারী সিংহালের পোস্টের নিচে মন্তব্য করে বলেন, “একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এটি অত্যন্ত অদ্ভুত, যিনি 116 মুসলমানের গণহত্যার প্রশংসা করে একটি নির্বাচনী জয়ের উদযাপন করছেন।” সেই ব্যবহারকারী থারুরকে ট্যাগ করে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি কিছু প্রভাবশালী হিন্দু নেতাকে এই গণহত্যার ‘সাধারণীকরণ’ এর নিন্দা করতে বলতে পারবেন?”
এই পোস্টের পর, শশী থারুর একটি প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “আমি কোনও সম্প্রদায়িক সংগঠক নই, তাই যৌথ বিবৃতি দেওয়া আমার কাজ নয়। তবে, আমি একজন #InclusiveIndia-এর উজ্জীবিত সমর্থক এবং গর্বিত হিন্দু হিসেবে বলতে পারি, আমার বিশ্বাস বা আমাদের জাতীয়তাবাদ কখনও এমন গণহত্যাকে প্রয়োজনীয়তা, যুক্তি বা সমর্থন জানায় না, বরং এর প্রশংসা করার প্রশ্নই ওঠে না।”
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা দাবি করেন যে, সিংহালের শেয়ার করা ছবি আসলে “গোবি চাষ কবরের ঘটনা” বা লোগাইন গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯৮৯ সালে ভাগলপুর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় লোগাইন গ্রামে ১১০ জনেরও বেশি মুসলমান নিহত হন এবং তাদের দেহগুলো যেখানে দাফন করা হয়েছিল, সেখানে গোবির চারা লাগানো হয়। এই ঘটনা এখনও বিহারের ইতিহাসে একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
যদিও থারুর তার মন্তব্যে বলেছেন যে, তার বিশ্বাস কখনও এমন গণহত্যাকে সমর্থন করে না, তবে এক ব্যবহারকারী তাকে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি কি এই ‘গোবি চাষ’ পোস্টটি নিন্দা করেছেন?”
থারুর পাল্টা উত্তর দিয়ে বলেন, “এটা ঠিক আমি কী করেছি! আমি এটি নিন্দা করেছি।”
এই বিতর্কের ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন এক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আশোক সিংহালের “গোবি চাষ” সম্পর্কিত পোস্ট এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া অনেকেই একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে ভারতে ধর্মীয় সংহতি এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের ক্ষেত্রে।

