দেশের সেমিকন্ডাক্টর শক্তি বাড়াতে আইআইটি ভুবনেশ্বরে ‘নমো সেমিকন্ডাক্টর ল্যাব’ স্থাপনের অনুমোদন

ভুবনেশ্বর / নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবরঃ দেশের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমকে আরও মজবুত করতে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি আইআইটি ভুবনেশ্বর-এ ‘নমো সেমিকন্ডাক্টর ল্যাব’ স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছেন। রবিবার ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি এমপিএলএডি (MPLAD) প্রকল্পের আওতায় অর্থায়িত হবে, যার আনুমানিক ব্যয় ৪.৯৫ কোটি টাকা।

মন্ত্রকের মতে, নমো সেমিকন্ডাক্টর ল্যাব ভারতের বিশাল প্রতিভা ভাণ্ডারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি যুব সমাজকে শিল্প-উপযোগী দক্ষতা (industry-relevant skills) প্রদান করবে এবং আইআইটি ভুবনেশ্বরকে সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের এক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

এই ল্যাবের মাধ্যমে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্যাকেজিং ইউনিটগুলির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে, এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ডিজাইন ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

প্রস্তাবিত এই ল্যাবটিতে সেমিকন্ডাক্টর প্রশিক্ষণ, ডিজাইন ও উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার থাকবে। এর মধ্যে উপকরণের জন্য ৪.৬ কোটি টাকা এবং সফটওয়্যারের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকার ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ২৯৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিল্পক্ষেত্রের সহযোগিতায় সর্বাধুনিক ইডিএ (EDA) টুলস ব্যবহার করে চিপ ডিজাইন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২০টি প্রতিষ্ঠানের ২৮ জন ছাত্রছাত্রী কর্তৃক ডিজাইন করা চিপগুলি সম্প্রতি এসসিএল মোহালি-তে প্রদর্শিত হয়েছে।

মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের বিশ্বব্যাপী চিপ ডিজাইন প্রতিভার প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। এই উদ্যোগ ভারতের সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

এছাড়া, ওডিশা রাজ্য সম্প্রতি ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন (ISM)-এর আওতায় দুটি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো সিলিকন কার্বাইড ভিত্তিক হাইব্রিড সেমিকন্ডাক্টরের জন্য সমন্বিত কেন্দ্র, এবং অন্যটি হলো উন্নত ৩ডি গ্লাস প্যাকেজিং সেন্টার।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আইআইটি ভুবনেশ্বর-এ ইতিমধ্যেই একটি সিলিকন কার্বাইড গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র রয়েছে। নতুন এই ল্যাব স্থাপনের ফলে সেখানে ক্লিনরুম সুবিধা ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে গবেষণা ও উন্নয়নের দিক থেকে সহায়তা দেবে।