মুম্বই, ১২ জুন (আইএএনএস): মুম্বইয়ের কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল (কেইএম) হাসপাতাল তাদের চূড়ান্ত বর্ষের এমবিবিএস ছাত্রী ডা. সেজল পাওয়ারের বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। একটি কমেডি শো-তে মৃতদেহ (ক্যাডাভার) নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও জনরোষ সৃষ্টি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
হাসপাতালের গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি পুরুষ ক্যাডাভার সম্পর্কে ডা. পাওয়ারের ‘অশ্রদ্ধাজনক ও অবমাননাকর’ মন্তব্য খতিয়ে দেখবে। তদন্ত রিপোর্ট শুক্রবার সন্ধ্যা অথবা শনিবারের মধ্যে জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কয়েক মাস আগে রেকর্ড করা কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের একটি অনুষ্ঠানে ডা. পাওয়ারের অংশগ্রহণ ছিল। সম্প্রতি সেই অনুষ্ঠানের প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে তিনি পুরুষ ক্যাডাভার নিয়ে সংবেদনহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যার মধ্যে মানবদেহের যৌনাঙ্গের আকার নিয়ে তুলনাও ছিল। এই মন্তব্যের জেরে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে এবং মুম্বই পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে।
এদিকে, তদন্ত কমিটি গঠনের একদিন আগে কেইএম-এর রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের সংগঠন মহারাষ্ট্র অ্যাসোসিয়েশন অব রেসিডেন্ট ডক্টরস (মার্ড) উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ডা. পাওয়ারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অনলাইন সমালোচনা ক্রমশ ব্যক্তিগত আক্রমণ ও লক্ষ্যভিত্তিক বিদ্বেষমূলক প্রচারে পরিণত হচ্ছে।
মার্ড বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর মন্তব্য অনুপযুক্ত ছিল এবং তা চিকিৎসা পেশার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে তারা স্বীকার করে যে এই মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আঘাত ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন স্নাতক ছাত্রাবাসের ওয়ার্ডেন এবং বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান ডা. অনিতা চালক এবং মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শ্রদ্ধা মোরে, যিনি হাসপাতালের সামাজিক মাধ্যম কার্যক্রমও দেখভাল করেন।
তদন্তকারীরা অনুষ্ঠানের প্রায় এক ঘণ্টার সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন। তাঁরা খতিয়ে দেখছেন, ডা. পাওয়ার অনিচ্ছাকৃতভাবে এই মন্তব্য করেছিলেন, নাকি তা কৌতুকের নামে অশালীন রসিকতার অংশ ছিল।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃতদেহের প্রতি মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার বিষয়ে জাতীয় মেডিকেল কমিশনের (এনএমসি) নির্দিষ্ট সামাজিক মাধ্যম নির্দেশিকা আগে থেকেই রয়েছে। তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনার ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ কেইএম হাসপাতালের ডিনের কাছে জমা দেবে। এরপর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, ডা. সেজল পাওয়ার ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টির সংবেদনশীলতা তিনি উপলব্ধি করেন এবং গবেষণার কাজে ব্যবহৃত মৃতদেহকে অসম্মান বা হেয় করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
























