আগরতলা, ১২ জুন: নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন বা সিএএ-এর আওতায় ত্রিপুরায় এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে দুইজন আবেদনকারীকে ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। বাকি আবেদনগুলি বিভিন্ন স্তরে যাচাই ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত হয়। আবেদনগুলি প্রথমে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে জমা পড়ে এবং জেলা প্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্যস্তরের কমিটি সেগুলি পরীক্ষা করে।
এক আধিকারিক বলেন, সিএএ-র অধীনে কোনও ধরনের অফলাইন বা শারীরিক প্রক্রিয়া নেই। সমস্ত আবেদন নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে যাচাই করা হয় এবং রাজ্যস্তরের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
তিনি জানান, বর্তমানে জমা পড়া অধিকাংশ আবেদনই বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। অনলাইন ড্যাশবোর্ডে প্রতিটি আবেদনের বর্তমান অবস্থা এবং প্রক্রিয়াকরণের ধাপ সংরক্ষিত রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ছয়টি আবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এর মধ্যে তিনটি আবেদনে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সেগুলি পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনটি আবেদন রাজ্যস্তরের কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়।
এই তিনটি আবেদনের মধ্যে দুইজন আবেদনকারী ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন।
উত্তর ত্রিপুরা জেলার এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানান, সম্প্রতি প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হওয়া তিনটি আবেদনই উত্তর ত্রিপুরা জেলার বাসিন্দাদের ছিল। নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন হলেন ঝলক দাস চৌধুরী। তিনি নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার পর আধার কার্ড সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে উত্তর ত্রিপুরার জেলা শাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এছাড়াও জেলার আরও এক মহিলা আবেদনকারী সিএএ-র অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, এখনও বিচারাধীন আবেদনগুলির নিষ্পত্তি কবে নাগাদ হবে, সে সম্পর্কেও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ থেকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদানের বিধান করেছে।
সিএএ কার্যকর হওয়ার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মতো ত্রিপুরাতেও ব্যাপক বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। একাধিক জনজাতি সংগঠন আইনটির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকাগুলিকে সিএএ-র আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। স্বশাসিত জেলা পরিষদভুক্ত অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনবিন্যাসগত স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।
























