আগরতলা, ১২ জুন: আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং ড্রোনভিত্তিক সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়াতে আগরতলা বিমানবন্দরে সিআইএসএফ কর্মীদের জন্য বিশেষ ড্রোন সচেতনতা প্রদর্শনীর আয়োজন করল আসাম রাইফেলস। বৃহস্পতিবার আগরতলা বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনাল ভবনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং উদীয়মান আকাশপথভিত্তিক হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তারক্ষীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
প্রদর্শনী চলাকালীন সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর কর্মীদের ড্রোন প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদ ধারণা দেওয়া হয়। বিশেষ করে মানববিহীন উড়োজাহাজ (ইউএভি) বা ড্রোন শনাক্তকরণ, সেগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকি প্রশমন এবং নিরাপদ উপায়ে ড্রোন প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আসাম রাইফেলসের কর্মকর্তারা ড্রোন পরিচালনা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামো সম্পর্কেও সিআইএসএফ সদস্যদের অবহিত করেন। পাশাপাশি বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে অননুমোদিত ড্রোন কার্যকলাপ থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় যে, বর্তমান সময়ে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত হুমকি শনাক্তকরণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে আসাম রাইফেলসের কর্মকর্তারা বলেন, বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিআইএসএফ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অপরিহার্য। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ কৌশলগত পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
আসাম রাইফেলসের এই উদ্যোগকে জাতীয় সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলির সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সিআইএসএফ সদস্যরা ড্রোন সচেতনতা বিষয়ক এই প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে অভিহিত করেন।
সিনিয়র আধিকারিকরাও এই ধরনের কর্মসূচির প্রশংসা করে জানান, নিয়মিত সচেতনতামূলক ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ নিরাপত্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হয়।
ড্রোন সচেতনতা প্রদর্শনীর শেষে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা, সতর্কতা এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।.



















