নিউ ইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবিতে জি৪ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফের একত্রিত হলেন এবং চলমান আলোচনার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, ব্রাজিলের মাউরো ভিয়েরা, জাপানের তাকেশি ইওয়ায়া এবং জার্মানির জোহান ওয়াডেফুল।
বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে জয়শঙ্কর জানান, “জি৪ জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি, ইন্টার-গভর্নমেন্টাল নেগোশিয়েশন প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
জি৪ একটি চার দেশের জোট, যারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদে সংস্কারের লক্ষ্যে যৌথভাবে প্রচার চালায় এবং একে অপরের প্রার্থীতা সমর্থন করে।
২০০৯ সাল থেকে চলমান আলোচনায় বিশেষ অগ্রগতি না হওয়ার জন্য দায়ী একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী, যারা আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণকারী “নেগোশিয়েটিং টেক্সট” গৃহীত হতে দিচ্ছে না। ফলে, আলোচনার প্রক্রিয়া প্রতিবছর আগের মতই অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গত মাসে আগের মতোই আলোচনার প্রক্রিয়াটি নতুন অধিবেশনে “রোলওভার” করেছে। তবে, জি৪ এবার একটি ক্ষুদ্র অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছে — গভর্নমেন্টাল নেগোশিয়েশন-এর কো-চেয়াররা একটি হালনাগাদ “এলিমেন্টস পেপার” প্রকাশ করেছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের অবস্থান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও গভর্নমেন্টাল নেগোশিয়েশন নিয়ে সামান্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আগে এমনও সময় ছিল যখন কমিটি কোনও নথিই তৈরি করতে পারত না, এবং বছর পার হয়ে গেলেও কিছুই এগোতো না। এখন অন্তত একটি সক্রিয় কমিটি কাজ করছে।”
ভারতের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়া একটি প্রধান কূটনৈতিক অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যেই জয়শঙ্কর বুধবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন — এল.৬৯ গ্রুপ এবং আফ্রিকার প্রধান ১০টি দেশের গোষ্ঠী সি-১০ (সি-10) এর সঙ্গে। দুই পক্ষই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পক্ষে এবং উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধিত্বের দাবি জানাচ্ছে।
জি৪-এর এই উদ্যোগে নিরাপত্তা পরিষদে কাঙ্খিত সংস্কারের দাবিতে আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরালো হল বলে মত বিশ্লেষকদের।

