গ্রেটার নয়ডা, ২৪ আগস্ট : যৌতুকের জন্য এক মহিলাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী নিকি নামে ওই মহিলাকে তাঁর স্বামী ভিপিন ভাটি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে পুড়িয়ে হত্যা করে। পুলিশ সূত্রে খবর, যৌতুক হিসেবে ৩৬ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল।
২৮ বছর বয়সী ভিপিন ভাটি এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত। যদিও তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন যে নিকি আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখা রয়েছে, “নিকি, কেন তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে? কেন এমন করলে? এই পৃথিবী আমাকে খুনি বলছে।” গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি এই পোস্টগুলি করেছিলেন।
নিকির দিদি কাঞ্চন, যিনি ভিপিনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী, তিনি জানিয়েছেন যে দুটি বোনকেই বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য নিয়মিত নির্যাতন করা হতো। কাঞ্চন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে মারধর করা হয় এবং সন্ধ্যায় তাঁর চোখের সামনেই নিকিকে মারধর করে গায়ে তরল পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিকির নাবালক ছেলে জানায়, “তারা মায়ের গায়ে কিছু একটা ঢেলেছিল, থাপ্পড় মেরেছিল এবং লাইটার দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে, যেখানে ভিপিনকে নিকিকে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে। নিকিকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নয়ডার ফোর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় তিনি মারা যান। ভিপিন ভাটিকে গ্রেপ্তার করা হলেও, তাঁর বাবা সত্যবীর ভাটি এবং ভাই রোহিত ভাটি এখনও পলাতক। পুলিশ তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



















