News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • জমি দূর্নীতি নিয়ে বিধানসভায় সরব বিধায়ক সুদীপ, সিবিআই তদন্তের দাবি
Image

জমি দূর্নীতি নিয়ে বিধানসভায় সরব বিধায়ক সুদীপ, সিবিআই তদন্তের দাবি

আগরতলা, ২৮ মার্চ : জমি দূর্নীতি নিয়ে বিধানসভায় বোমা ফাটালেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর অভিযোগ, গোটা ত্রিপুরায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি, জমি মাফিয়াদের সাথে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মীরাও জড়িত রয়েছেন। তাই এর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার কাছে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ বিধানসভায় সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, গত ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সিপাহীজলার ডিএম রাজ্য সরকারের নিকট জমি দুর্নীতির নিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে ১৪০০ কানি জায়গার দুর্নীতির বিষয়ে উল্লেখ্য করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি, ওই চিঠিতে জমি মাফিয়াদের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট দফতরের দুইজন উচ্চ পদস্থ কর্মচারীর নামও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয়, চিঠি দেওয়ার ২২ দিনের মাথায় তাঁকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, তাঁর অপরাধ সাধারণ মানুষ হয়ে জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। ওই চিঠিতে সিপাহীজলা জেলার ডিএম লেখেন, সিপাহীজলা জেলায় কোনো দলিল প্রমাণ ছাড়াই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। তাছাড়া, খাস জমি নিজেদের ব্যবহারের রূপান্তরিত করা, খাস জমিকে বরাদ্দকৃত জমি হিসেবে দেখানো হয় এবং তারপর অনুমতি ছাড়াই বরাদ্দকৃত জমিকে ব্যবহারের জমিতে রূপান্তর করা হয় এবং বরাদ্দকৃত জমি যথাযথ অনুমতি ছাড়াই নিজেদের ব্যবহারেট জমিতে রূপান্তরিত করা সহ একাধিক অবৈধ কাজ হচ্ছে। এই কাজের সাথে ল্যান্ড রেকর্ড অ্যান্ড সেটেলমেন্ট অফিসার রত্নজিৎ দেববর্মা এবং সহকারী সিনিয়র কম্পিউটার কর্মী তাপস চৌধুরী যুক্ত রয়েছে। অতিসত্বর তাদেরকে অপসারণ করা দরকার এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা উচিত। এদিন আরও লেখেন, সিপাহীজলার ডিএম ও কালেক্টর চার্জশিট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তা প্রদান করবেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দুইজন আধিকারিকরা ভূমি মাফিয়াদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলে তারা জমির রেকর্ড কারচুপির চেষ্টা করতে পারে।

শ্রী রায়ের দাবি, যখন এই বিষয়টি তাঁর কাছে আসে তরিঘরি তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিধানসভায় কথা বলবেন। কিন্তু এই এবিষয়ে তাঁকে বিধানসভায় কথা বলতে দেওয়া হয় নি। বিধানসভা শুরু হওয়ার আগেই দফতর থেকে ওই প্রশ্ন বাদ দেওয়া নোটিশ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। গোটা ত্রিপুরায় বিজেপি সরকারের আমলে দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিধানসভায় কথা বলতে দেওয়া হয় না। প্রত্যেকবার বিরোধীদের কন্ঠরোধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এদিন তিনি আরো বলেন, জমি কেলেঙ্কারী ত্রিপুরার একটি বড় কেলেঙ্কারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৮টি জেলায় ১০ হাজার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অতিসত্বর এর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করা দরকার। কোনো দুর্বলতা না থাকলে সিবিআই তদন্ত দেওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর নিকট এই চিঠি পৌঁছানোর পর ও এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেন নি। যাঁরাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন তাঁদেরই মুখ বন্ধ করে দিয়েছে শাসক দল বিজেপি। আর দুঃখের বিষয় যাঁরাই জমি মাফিয়াদের সাথে জড়িত তাঁরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আসলে বিজেপি সরকার কালিমালিপ্ত সরকার। তাঁরা প্রত্যেকেই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। গোটা রাজ্যে কমিশনের সরকার চলছে, বলে দাবি তাঁর।

Releated Posts

কমিউনিস্ট ও কংগ্রেস সমস্যা সৃষ্টি করতে চায়, তারা উন্নয়ন দেখে না: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ আগস্ট: রাজধানী আগরতলার পরিত্যক্ত ও দখলমুক্ত হওয়া পুরনো পুকুরগুলির সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার…

ByByReshmi Debnath Aug 3, 2026

বাঁকিপুর উপনির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের ঐতিহাসিক জয়, ভাঙল বিজেপির দীর্ঘদিনের দখল; শুভেচ্ছা জানালেন সম্রাট চৌধুরী

পাটনা, ৩ আগস্ট (আইএএনএস) : বিহারের ব্যাঙ্কিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বড় রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করলেন জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত…

ByBySandeep Biswas Aug 3, 2026

শিক্ষকতায় ফিরলেও রাজনীতি ছাড়ছেন না, জল্পনায় ইতি টানলেন প্রাক্তন সাংসদ

আগরতলা, ৩ আগস্ট: শিক্ষকতায় ফেরার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা…

ByByReshmi Debnath Aug 3, 2026

সুযোগসন্ধানীদের জন্য তিপরা মথায় কেনো স্থান নেই : প্রদ্যোত

আগরতলা, ৩ আগস্ট: আসন্ন ভিলেজ কমিটি (ভিসি) নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মথা এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলিতে ব্যাপক সাংগঠনিক…

ByByTaniya Chakraborty Aug 3, 2026
Scroll to Top