নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণপুর, ৭ জুলাই: কৃষি ও কৃষক ভারতের অন্যতম একটি মেরুদন্ড স্বরূপ। কিন্তু হঠাৎ এই কৃষকদের উপর যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে তখন ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে কৃষককুল দিশেহারা হয়ে যায়। তাঁদের তখন সরকারী ক্ষতিপূরণের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর করার কিছু থাকে না। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে এমনই দুর্যোগ নেমে এসেছিল রাজ্যের বুকেও। প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিতে কৃষির প্রভূত ক্ষতি হয়েছিল। খোয়াই জেলার কল্যাণপুরেও ক্ষতি নেহাত কম হয়নি।
সারা রাজ্যের সাথে গত বৃহস্পতিবার কল্যাণপুর ব্লক এর মিলনয়তনে এক অনুষ্ঠান করে ২৪৫০ জন ধান চাষী এবং ৫০০ জন সব্জি চাষীকে সরকারীভাবে ক্ষতিপুরন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কল্যাণপুর কৃষি তত্বাবধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্লক চেয়ারম্যান সোমেন গোপ, ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব পাল, ব্লক উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান ইন্দ্রানী দেববর্মা, আগরতলা থেকে আসা উপ কৃষি অধিকর্তা অলকা দেববর্মা প্রমুখ। ক্ষতিপূরণ ও খুব একটা কম নয়।
শুধু কল্যাণপুর কৃষি মহকুমাতেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় প্রায় ৫৬ লাখ টাকার মতো। সেই সময় ঝড়ে আমন ও বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছিল। প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই হিসাবে মোট ২৪৫০ জন ধান চাষীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হয় ৩৮. ২৫ লাখ টাকা। কোন কৃষকের কত হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে সেই হিসাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তাই ক্ষতিপূরণ বাবদ যে সবাই সমান টাকা পায় বিষয় টা এমন নয়।
জানা গেছে নভেম্বর এর ঝড়ে মোট ৯৫ হেক্টর জমির সব্জি নস্ট হয়। প্রায় ৫০০ কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার ৫০০ সব্জি চাষী কে মোট ১৬. ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। জানা গেছে আমন ও বোরো ধানের ক্ষতি হয় প্রায় ৮০০০ হেক্টর কৃষি জমিতে। কৃষক রা ক্ষতিপুরন পাওয়াতে তারা যথেষ্ট খুশি। কারণ কৃষি কাজ করেই তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। বর্তমানে কল্যাণপুর কৃষি মহকুমার কৃষি তত্বাবধায়ক রূপক রায় ছুটি তে আছেন। তিনি আগামী ২৭ জুলাই কাজে যোগ দেবেন বলে প্রাথমিক খবর। বর্তমানে কল্যাণপুর কৃষি মহকুমার কৃষি তত্বাবধায়কের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সুশান্ত দেব।



















