গ্যাংটক, ৪ এপ্রিল (হি. স.) : ভয়াবহ তুষারধস সিকিমের ছাঙ্গুতে। সিকিমের ছাঙ্গু রোডে ১৭ মাইলে তুষার ঝড়ে বিপাকে অন্তত ১৫০ পর্যটক। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ তুষারধস নামে। বরফে তলিয়ে অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় সিকিম পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। তৎপরতায় উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। তবে খারাপ আবহাওয়া উদ্ধারকার্য বাধা পাচ্ছে।
সোমবার রাত থেকে দফায়-দফায় তুষারপাত চলছে পূর্ব সিকিমের নাথুলা, বাবা মন্দির, ছাঙ্গু এলাকায়। ফলে ১৫ মাইলের পর আর পর্যটকদের যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, তুষারপাতের খবর পেয়ে এদিন সকালে পর্যটক দল ছাঙ্গুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তাতেই বিপদ বাঁধে। সূত্রের খবর, সেই সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন বেশ কিছু পর্যটক। কাছেই সার দিয়ে দাঁড় করে রাখা ছিল পর্যটকদের গাড়ি। সেই সময় পাহাড়ের উপর থেকে তুষারধস নেমে আসে। তাতেই চাপা পড়ে যান পর্যটকরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, কিছু অতি উৎসাহী পর্যটক ১৫ মাইলে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে ১৭ মাইল পর্যন্ত পৌঁছে যান। উদ্দেশ্য ছিল, ছবি তোলা। সেখানে বরফের পুরুস্তর ছিল। তাতে পা দিতেই তলিয়ে যান তাঁরা।
জানা গিয়েছে, ১৭ মাইলের কাছে নামতে প্রবল তুষারঝড়ের মুখে পড়েন তাঁরা। বেশ কয়েকজন বরফে তলিয়ে যায় বলে খবর। তাঁদের মধ্যে শিশুও আছে বলে জানা গিয়েছে। অসমর্থিত সূত্রে ৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে খবর। গাড়ি চালকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে অক্সিজেনের সমস্যা হচ্ছে। ফলে বিপদ আরও বেড়েছে। ওই এলাকায় তুষারধস নেমেছে কি না তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, এর আগে, মার্চ মাসেও প্রবল তুষারপাত হয় সিকিমের ছাঙ্গু লেক এলাকায়। সেই সময় সেখানে ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েন বহু পর্যটক। পর্যটকদের উদ্ধার করতে হাত লাগায় সেনাবাহিনী। সেনার সাহায্যেই বহু পর্যটককে উদ্ধার করা হয়। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই ফের ছাঙ্গু যাওয়ার পারমিট দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু এদিনের ঘটনা নিয়ে আগাম কোনও পূর্বাভাস ছিল না বলেই সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।–



















