লামডিং (অসম), ১২ ডিসেম্বর (হি.স.) : লামডিঙে পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে সুপারি কিলার বিহারের বাসিন্দা মোহন কুমারের। খুনের মামলায় অভিযুক্ত মোহন কুমার পুলিশকর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে গুলি করার চেষ্টা করলে এনকাউন্টার করে পুলিশ।
ঘটনাটি গতকাল রাতে সংঘটিত হয়েছে। গত শুক্রবার লামডিঙে অবসরপ্ৰাপ্ত রেল কৰ্মচারী তরুণ চক্ৰবৰ্তীকে গুলি করার সঙ্গে জড়িত ছিল বিহারের বাসিন্দা সুপারি কিলার মোহন কুমার। গতকাল ১১ ডিসেম্বর বিহারে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিউ বঙাইগাঁওয়ে ডাউন বিকানের এক্সপ্রেস থেকে তাকে রেলপুলিশ আটক করেছিল।
পুলিশের টানা জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মোহন কুমার নাকি বয়ান দিয়েছে, তাকে দু লক্ষ টাকার বিনিময়ে তরুণ চক্ৰবৰ্তীকে খুন করতে নিয়োগ করা হয়েছিল। এদিকে তরুণবাবুকে খুন করতে ব্যবহৃত লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য গতরাতে মোহন কুমারকে নিয়ে যাওয়া হয়। যথারীতি সে লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে। তখন পুলিশ তাকে রুখতে গুলি চালাতে বাধ্য হয়। পুলিশের গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হলে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি হাতে তৈরি বন্দুক এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে।
উল্লেখ্য গত ৯ ডিসেম্বর রাতে অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মচারী তরুণ চক্রবর্তীর ওপর গুলি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লাংমডিং পুলিশ অভিযুক্ত সাতজনকে আটক করেছিল। ওই অভিযুক্তদের মধ্যে ছিল ঘটনার মাস্টার মাইন্ড তথা লামডিংয়ের চতুৰ্থ শ্রেণির রেলকর্মচারী অনিল মালাকার, গুলিবিদ্ধ তরুণ চক্রবর্তীর ভাইয়ের স্ত্রী বুল্টি চক্রবর্তী, বিহারের সাহেব রজক, মোহন কুমার, পাণ্ডব কুমার, দীপক বিশ্বাস এবং অজয় বর্মন।
সুপারি কিলার মোহন কুমার এবং পাণ্ডব কুমার দুদিন ধরে তরুণ চক্রবর্তীর গতিবিধি লক্ষ্য করে শুক্রবার রাতে ওই ঘটনা সংগঠিত করেছিল। তার পর গতকাল ১১ ডিসেম্বর বিহারে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিউ বঙাইগাঁওয়ে ডাউন বিকানের এক্সপ্রেস থেকে মোহন কুমারকে রেলপুলিশ আটক করেছিল। ইতিমধ্যে ওই ঘটনায় জড়িত পাণ্ডব কুমারকে বিহার থেকে আটক করেছে পুলিশ।
লামডিঙে সংগঠিত গুলিচালনার মূল ষড়যন্ত্ৰকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে অনিল মালাকার নামের রেল কৰ্মচারীকে। জানা গেছে, চতুৰ্থ শ্রেণির কৰ্মচারী অনিল মালাকার কোনও দিন চাকরির দায়িত্ব সম্পাদন করেননি। গুলিবিদ্ধ আহত তরুণ চক্ৰবৰ্তীর ভাই দেবু চক্ৰবৰ্তীর বন্ধু ছিল মূল অভিযুক্ত অনিল মালাকার। গার্হস্থ্য বিবাদের দরুন গুলিচালনার ঘটনা সংগঠিত করা হয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের।



















