সকালেই নামল আঁধার! ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে ত্রস্ত কাকদ্বীপ, সুন্দরবন ও গোসাবা

ক্যানিং, ২৪ অক্টোবর (হি.স.): ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর ভয়ে কাঁপছে উপকূলবর্তী জেলাগুলি। সকালেই আঁধার কাকদ্বীপ, সুন্দরবন, গোসাবাতে। অন্ধকারে নিমজ্জিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ও ডায়মন্ড হারবারও। সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসনও। গঙ্গাসাগর, ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ ও গোসাবাতে মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক টিম। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হালকা বৃষ্টি চলছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে। সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। বেলা বাড়তেই সমুদ্র উত্তাল হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে গঙ্গাসাগর এবং বকখালির মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের সমুদ্র সৈকতে ঘোরাঘুরিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সোমবার বিকেলের মধ্যে বাঁধ লাগোয়া বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জেলার উপকূলবর্তী এলাকা থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। সাগর ব্লকের ভাঙন কবলিত ঘোড়ামারা দ্বীপ এবং নামখানার মৌসুনি দ্বীপের বাঁধের ধারের বাসিন্দাদেরও উঁচু কোনও বিল্ডিং, স্কুল বাড়ি ইত্যাদিতে চলে যেতে বলা হয়েছে।
সুন্দরবনের সাগর, নামখানা, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, কুলতলি এবং গোসাবা ব্লকের উপরেও আলাদা করে নজর রাখছে প্রশাসন। প্রতিটি মহকুমা শাসক এবং ব্লক প্রশাসন দফতরে জরুরি ভিত্তিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা শাসকের দফতর থেকে কন্ট্রোল রুমগুলির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হবে। প্রতিটি পঞ্চায়েতকে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, ত্রিপল এবং পানীয় জল মজুত করে রাখা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলিতেও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৭ হাজারের বেশি ত্রিপল মজুত করা হয়েছে। চাল থাকছে ১ হাজার ৩০০ মেট্রিকটন। যা পৌঁছে দেওয়া হবে দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের কাছে। ক্যানিং, পাথরপ্রতিমা ও কাকদ্বীপ ব্লকের জন্য রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলার (এসডিআরএফ) ৩টি দল প্রস্তুত রয়েছে।