আগরতলা, ৬ জুলাই : চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের অবিলম্বে চাকরিতে নিযুক্তি সহ অন্যান্য দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলা শহরের সিটি সেন্টারের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ আন্দোলন সংগঠিত করা হয়েছে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করেছে। রাজধানী আগরতলা শহর সহ রাজ্যের ২৩টি মহকুমায় দু’দিনব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জয়েন্ট মুভমেন্ট ফর ১০৩২৩ শিক্ষক সংগঠন। সদর জেলা কমিটির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলা শহরের সিটি সেন্টারের সামনে প্রয়াত সহকর্মী শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্দোলন কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে।
এদিন শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান শুরু হতেই পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষকদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, মূলত তিন দফা দাবিতে তারা রাজ্যব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার এবং বুধবার দু’দিনব্যাপী রাজ্যের ২৩টি মহকুমাতে এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকুরিচ্যুত প্রত্যেক শিক্ষককে স্থায়ী নিযুক্তি দিতে হবে। এখনো পর্যন্ত ১০৪ জন শিক্ষক মারা গিয়েছেন। মৃত প্রত্যেক শিক্ষকের পরিবারে ডাই ইন হার্নেস প্রকল্পে চাকরি দিতে হবে। চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শিক্ষক চাকুরীতে থাকাকালীন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তাদের পক্ষে ঋণের টাকা এই মুহূর্তে মিটিয়ে দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। গ্যারান্টারদের কাছ থেকে কোনো অবস্থাতেই ঋণের টাকা কেটে রাখা যাবেনা বলে দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, চাকরি ফিরে না পাবেন ততদিন পর্যন্ত সুদ সমেত কিস্তির টাকা ফেরত নেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
চাকরিচ্যুত শিক্ষক নেত্রীর ডালিয়া দাস অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকার চাকরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করে চলেছেন। মৌনতা ভেঙ্গে অবিলম্বে চাকুরীচ্যূতদের চাকুরীতে নিযুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরো অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়াত সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান পর্যন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না।এ ধরনের কার্যকলাপ এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, তারা করোনা বিধি লংঘন করেছেন। সে কারণেই তাদেরকে গ্রেপ্তর করা হয়েছে। পুলিশের এ ধরনের কার্যকলাপ এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চাকুরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ মিছিল-মিটিং অব্যাহত রেখেছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র চাকরিচ্যুত শিক্ষক-কর্মচারীরা যখন তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে আসেন তখন তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশের এ ধরনের পক্ষপাতমূলক কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার জানান, করোনা বিধি লংঘন করলে তাদেরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ রয়েছে। আইন রক্ষার জন্যই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। চাকরিচ্যুত ১০৩২৩ শিক্ষক-শিক্ষিকারা মঙ্গলবার সহকর্মী প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আসলে আগরতলা সিটি সেন্টারের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।



















