ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করল আওয়ামী লীগ। খুন, ধর্ষণ, গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং গুমের মতো ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরে দলটি দাবি করেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দলের দাবি, পরিস্থিতির অবনতি সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন একটি মঞ্চে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগকে নির্মূল করার কথা বলেছেন এবং তা করার জন্য পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন।
আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র সাত মাসে সাতটি শ্রেণিতে মোট ২১,৭৫৬টি সহিংসতার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১,৭৮৯টি খুন এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ১১,১৬৫টি হিংসার ঘটনা রয়েছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর ৩১৭টি হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে বলে দলটির দাবি।
দলটি আরও জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩৩৯টি ধর্ষণের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, যার মধ্যে ১১৪টি গণধর্ষণ। এর মধ্যে ৪১টি ঘটনায় ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীদের হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া জুনে গণপিটুনিতে ৩১ জন এবং আগস্টে আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের।
ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর রিপোর্টের উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৮৩০টি রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় ৫৬ জনের মৃত্যু এবং ৫,২৪৬ জন আহত হয়েছেন। দলটির দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩৮৩ জন সাংবাদিক হয়রানি বা হামলার শিকার হয়েছেন। শুধু আগস্ট মাসেই নদী, খাল ও জঙ্গল এলাকা থেকে ৮৭টি অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ উদ্ধারের কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ আরও অভিযোগ করেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের ‘সহযোগীদের’ ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, গুম এবং কারাগারে ৫৮ জনের মৃত্যুর ঘটনাও সরকারের হিসাবের অংশ নয় বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, গুম, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, ইতিহাসের সেই অধ্যায় মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি মাত্র সাত মাসের মধ্যেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ প্রশ্ন তুলেছে, একটি সরকার কতটা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হলে সেই রাজনৈতিক দলকেই সম্পূর্ণ নির্মূল করার কথা বলতে পারে, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব উল্লেখ করে দলটি দাবি করেছে, সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক গ্রেফতারের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা সরকারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।



















