আগরতলা, ৭ সেপ্টেম্বর: মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আগরতলার গোয়ালাবস্তি, হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায়। আক্রান্ত সঞ্জিৎ রায়ের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই পুরনো বিরোধের জেরেই ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ সেপ্টেম্বর গোয়ালাবস্তি এলাকার একটি গবাদি পশুর খাবারের দোকানে খোল, ভুসি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে যান অনিল রায় নামে এক ব্যক্তি। বকেয়া টাকা ও পুরনো পাওনা নিয়ে দোকান মালিকের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সঞ্জিৎ রায়কে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। অভিযোগ, এরপরই অনিল রায়ের নেতৃত্বে ৬ থেকে ৮ জন যুবক সেখানে জড়ো হন। তাঁদের হাতে দা, লাঠি ও রড-সহ বিভিন্ন অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ আক্রান্ত পক্ষের।
অভিযোগ, এরপর সঞ্জিৎ রায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান সঞ্জিৎ। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে আগরতলা জিবি হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর ছোট ভাই টুনটুন রায়ও হামলায় গুরুতর আহত হন বলে পরিবারের দাবি। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক।
সঞ্জিৎ রায়ের অভিযোগ, গোয়ালাবস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে। তাঁর দাবি, অনিল রায়, পিন্টু রায়, আকাশ রায় ও বিকি রায়-সহ কয়েকজন এই কারবারের সঙ্গে জড়িত। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর ৫ সেপ্টেম্বর এনসিসি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। আক্রান্ত পরিবারের দাবি, অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা অধরা রয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আক্রান্ত পরিবার। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং আক্রান্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সঞ্জিৎ রায়। মাদক ব্যবসার প্রতিবাদই হামলার কারণ ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।



















