আগরতলা, ২৭ আগস্ট : ডিজিপি (পুলিশ মহানির্দেশক) অনুরাগ ধ্যানকারের মৃত্যুর প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং সত্য উদঘাটনের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রয়াত পুলিশ মহানির্দেশকের দুঃখজনক প্রয়াণ সম্পর্কে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা একথা বলেন।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০ জুলাই আমরা ডিজিপির দপ্তর থেকে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাই। সেদিন সকাল ১১:৩০ মিনিটে তাঁর দপ্তরের চেম্বার সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। ২০ জুলাই ১০:১২ ঘটিকায় তিনি দপ্তরে পৌঁছান এবং গার্ড অফ অনার নেওয়ার পর তাঁর আর্ডালিকে নির্দেশ দেন সকাল ১১টা পর্যন্ত যেন তাঁকে বিরক্ত না করা হয়। আর্ডালিকে কিছু না জানিয়েই তিনি ওয়াশরুমের পাশের চেঞ্জিং রুমটি ভেতর থেকে বন্ধ করে নেন। সকাল ১১টা পর্যন্ত কিছু আধিকারিক তাঁর দপ্তরের চেম্বারের সামনে এসে ফিরে যান।
মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে বেলা ১১টার পর ডিআইজিপি (সদর দপ্তর) প্রণব মজুমদার ডিজিপির চেম্বারে প্রবেশ করেন, কিন্তু তাঁকে চেয়ারে দেখতে পাননি। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ডিজিপির আর্ডালিকে এবং ব্যক্তিগত বিভাগকে বিষয়টি জানান। চেঞ্জিং রুমটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, তাই পুলিশ সদর দপ্তরের মিস্ত্রি (কার্পেন্টার) এবং অন্যান্য আধিকারিকদের ডেকে পাঠানো হয়। এরপর দেখা যায় যে ওয়াশরুমের দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ রয়েছে। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সমস্ত নিয়ম মেনে তাঁকে দ্রুত জিবি পন্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুপুর ১২:৪৮ ঘটিকায় চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণের জন্য অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং দুর্ভাগ্যজনক। এরকম একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের এভাবে মৃত্যু সকলের জন্যই অত্যন্ত কষ্টদায়ক। ঘটনার পরপরই পশ্চিম আগরতলা থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়। এসপি (ওয়েস্ট) এই তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন। এর পাশাপাশি ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং পশ্চিম আগরতলা পুলিশকেও এই তদন্তে যুক্ত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে আইজিপি (আইন ও শৃঙ্খলা) সম্পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়াটি পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্যও নিয়েছি। রাজ্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে, এছাড়া বিভিন্ন আলামত বা জিনিসপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর কারণ হিসেবে ফাঁস লেগে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডাঃ সাহা বলেন, আমরা আরও উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের জন্য সমস্ত প্রমাণ রাজ্যের বাইরেও পাঠিয়েছি। ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র সংক্রান্ত প্রমাণ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ঘটনা। তাই কোনো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সমস্ত তথ্য, প্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য এবং অন্যান্য নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে। আমি আমার গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। এই ঘটনার প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং সত্য উদঘাটনের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতি শুনে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার আগেই ময়না তদন্তের রিপোর্ট সহ যাবতীয় তথ্য জানানো যায় কি। তাঁর বক্তব্যের মাঝেই অধ্যক্ষ এদিনের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।


















