রাঁচি, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্তে নেমে সিআইডির কাছে মূল অভিযুক্ত অভয় কুমার তিওয়ারির দেওয়া স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৬ সালের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার (সিডিপিও) নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ শ্রেণির প্রায় সমস্ত আসনেই কারচুপি করে অন্য রাজ্যের প্রার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন তিওয়ারি।
অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আউটসোর্সিং সংস্থা টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড (টিডিপিএল) প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার ‘রেট’ নির্ধারণ করেছিল। তিওয়ারি ওই সংস্থায় মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর স্বীকারোক্তির পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে সিআইডি।
এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সিডিপিও নিয়োগে কতজন প্রার্থী ঘুষ দিয়েছিলেন, কোন কোন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছিল এবং পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের কোন পর্যায়ে কারচুপি করা হয়েছিল।
সিআইডি সূত্রের দাবি, তিওয়ারি প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল. খিয়াংতে এবং তৎকালীন সদস্য অজিতা ভট্টাচার্যের জড়িত থাকার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সুবিধা পাইয়ে দিতে সাক্ষাৎকার বোর্ডে ‘সেটিং’ করা হয়েছিল।
‘রাজক’ নামে চিহ্নিত এক প্রার্থীর প্রসঙ্গে তিওয়ারি দাবি করেছেন, তাঁর সাক্ষাৎকার বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান এল. খিয়াংতে। রামবীর সিং নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
একইভাবে সফল প্রার্থী কাজল ভারতীর ক্ষেত্রে তিওয়ারির দাবি, তাঁর সাক্ষাৎকার বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন অজিতা ভট্টাচার্য এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিবৃতিতে প্রমোদ কুমার পাঠক এবং কুমারী ডলি জয়সওয়ালের নামও উঠে এসেছে।
তিওয়ারির দাবি অনুযায়ী, ‘কৃষ্ণ’ নামে পরিচিত এক আইটিআই প্রকল্প ব্যবস্থাপক ওই দুই ক্ষেত্রেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল. খিয়াংতে ইতিমধ্যেই এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে রয়েছেন। প্রাক্তন জেপিএসসি সদস্য অজিতা ভট্টাচার্যকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। তবে তিওয়ারির দেওয়া তথ্য স্বাধীন প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে সিআইডি আর্থিক লেনদেন, কল ডিটেল রেকর্ড, ডিজিটাল প্রমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গতিবিধি এবং পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত মূল নথি খতিয়ে দেখছে। আইনত গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তদন্তে তিওয়ারির অভিযোগগুলি প্রমাণিত হলে ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ কেলেঙ্কারির পরিধি আরও বড় হতে পারে এবং আরও সরকারি আধিকারিক ও মধ্যস্থতাকারীর নাম এই মামলায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
–আইএএনএস



















