নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): গত বছর অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কিরানা হিলসে ভারতের একটি লইটারিং মিউনিশন আঘাত হেনে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, কিরানা হিলসকে ভারতীয় বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেনি।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনে অপারেশন সিঁদুর ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ‘বিমর্শ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিরানা হিলস সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্টের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন প্রাক্তন সিডিএস।
জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, সরগোধা এবং তার আশপাশে থাকা রাডার খুঁজে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ভারতীয় বাহিনী একটি লইটারিং মিউনিশন পাঠিয়েছিল। এটি ইসরায়েলি নকশার ‘হারোপ’ ড্রোন হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য খুঁজে না পাওয়ার পর কিরানা হিলসের কাছে সেটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এরপর সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই এলাকার কোনও একটি পাহাড়ে আঘাত হেনে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
জেনারেল চৌহান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী—যিনি অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস ছিলেন—সঠিকভাবেই জানিয়েছিলেন যে ভারত কিরানা হিলসকে লক্ষ্য করেনি।
গত বছর মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এয়ার মার্শাল এ কে ভারতীও জানিয়েছিলেন যে পাকিস্তানের কিরানা হিলসে থাকা কোনও পারমাণবিক স্থাপনাকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী লক্ষ্য করেনি। তিনি বলেছিলেন, কিরানা হিলসে কোনও পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে সে বিষয়েও ভারতীয় বাহিনী আগে অবগত ছিল না।
ঘটনার ক্রম ব্যাখ্যা করে প্রাক্তন সিডিএস জানান, হামলার আগে ভারতীয় বাহিনী সরগোধা ও কিরানা হিলসের দিকে একাধিক লইটারিং মিউনিশন পাঠিয়েছিল। সরগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কিরানা হিলস।
তিনি বলেন, ওই লইটারিং মিউনিশনগুলির লক্ষ্য ছিল সরগোধা ও তার আশপাশে থাকা রাডারগুলিকে চিহ্নিত করা। নির্দিষ্ট সময় ধরে এলাকায় ঘোরাফেরা করে লক্ষ্য খোঁজার পরও যদি কোনও লক্ষ্য পাওয়া না যায়, তাহলে মিউনিশনটির কার্যক্ষমতার সময় শেষ হয়ে যায়।
জেনারেল চৌহান বলেন, একটি লইটারিং মিউনিশন প্রায় দু’ঘণ্টা পর্যন্ত এলাকায় ঘোরাফেরা করতে পারে। সেই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে না পেলে সেটি অন্য কোনও জায়গায় গিয়ে আঘাত হানতে পারে। তাঁর মতে, এমনই পরিস্থিতিতে সেটি কিরানা হিলসের কোনও একটি পাহাড়ে গিয়ে আঘাত করে থাকতে পারে।
তাঁর এই বক্তব্য কিরানা হিলসে কী ঘটেছিল, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা তুলে ধরলেও তিনি ফের স্পষ্ট করেন যে অপারেশন সিঁদুরের সময় ওই এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
এদিকে, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) স্কার্দুতে হামলার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান প্রাক্তন সিডিএস। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই হামলা বাতিল করা হয়।
জেনারেল চৌহান জানান, তৎকালীন বায়ুসেনা প্রধান সরগোধায় হামলা চালানো উচিত কি না জানতে চাইলে তিনি সম্মতি দেন এবং আরও দুটি লক্ষ্য চিহ্নিত করতে বলেন। সেই লক্ষ্যগুলির মধ্যে একটি ছিল স্কার্দু। স্কার্দুতে হামলার জন্যও অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেখানে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ভোলারির দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে স্কার্দুর পরিকল্পিত হামলা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা অভিযানটি ভোলারির দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
অপারেশন সিঁদুরের সময় ১০ মে ভোলারির একটি হ্যাঙ্গারে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলা পরবর্তীকালে ওই বিমান অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দৃশ্য হিসেবে সামনে আসে। গান্ধীনগর-ভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।


















